০৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:০০

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর এটাই ‘সেরা সময়’: ইরানের প্রেসিডেন্ট

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেকিয়ান   © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনই উপযুক্ত সময় বলে মনে করছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তাঁর মতে, যুদ্ধ ও সংঘাতের পর ইরান এখন ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী এবং আলোচনার মাধ্যমে অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের জন্য প্রস্তুত।

শনিবার দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ‘যখন মানুষ সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা বলে, আমি মনে করি এখনই সেরা সময়। কারণ দেশে সংহতি, শক্তি ও ঐক্য রয়েছে। আমার যতদূর জানা, এই যুদ্ধ ও সংঘাত থেকে ইরান বিজয়ী ও শক্তিশালী দেশ হিসেবে বেরিয়ে এসেছে।’

পেজেশকিয়ান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের সুযোগ তৈরি করেছে।

আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মনে করেন, আলোচনার মাধ্যমেই দেশটি তার অধিকার আদায় করতে পারে। দেশের ও জনগণের অধিকারের বাইরে ইরান আর কিছু চায় না বলেও জানান তিনি।

শুধু যুদ্ধের মাধ্যমে কোনো বিরোধের সমাধান করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন পেজেশকিয়ান। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে শান্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারেও তাঁর সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।

পেজেশকিয়ান বলেন, ‘শুধু যুদ্ধের মাধ্যমে সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব নয়। আমরা সমঝোতা স্মারকের বিধান অনুযায়ী শান্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আস্থা পুনর্গঠনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তাঁর মতে, ওয়াশিংটনকে আগে অবিশ্বাসের পরিবেশ থেকে সরে আসতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সমঝোতা স্মারকটিকেই আমাদের পদক্ষেপের ভিত্তি করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তার তৈরি করা অবিশ্বাসের পরিবেশ থেকে সরে আসতে হবে এবং আস্থা পুনর্গঠনের সুযোগ দিতে হবে।’

তবে পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে বলেন, তেহরানের দৃষ্টিতে ওয়াশিংটন এখনো ‘অবিশ্বাসযোগ্য’।

সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া আরেক বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হলেও ওয়াশিংটনের ব্যাপারে ইরানের দীর্ঘদিনের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

পেজেশকিয়ান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ঔপনিবেশিক, যুক্তরাষ্ট্র অপরাধী এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইসলামি প্রজাতন্ত্রই থাকবে। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’

তবে তাঁর দাবি, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারণেই যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যে আলোচনা করেছি এবং কূটনীতির পথ অনুসরণ করেছি, সেটাই যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার টেবিলে আসতে এবং ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা ও বোঝাপড়ায় পৌঁছাতে বাধ্য করেছে।’

জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক নিয়ে ইরানের ভেতরে যে সমালোচনা হচ্ছে, সেটিও প্রত্যাখ্যান করেন পেজেশকিয়ান। তাঁর দাবি, ওই স্মারকে ইরানকে নিজের কোনো স্বার্থ বা অবস্থান থেকে সরে আসতে বলা হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আপনি সমঝোতা স্মারকের একটি ধারাও খুঁজে পাবেন না, যেখানে আমরা কিছু ছেড়ে দিয়েছি।’

পেজেশকিয়ান আরও বলেন, সমঝোতা স্মারকে ইরান যে অবস্থানে স্বাক্ষর করেছে, তেহরান সেই অবস্থানের ব্যাপারে ‘দৃঢ়ভাবে’ অটল রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন পেজেশকিয়ান। তাঁর দাবি, ইরান ও ওমানের যৌথভাবে নির্ধারণ করার কথা থাকা নৌযান চলাচলের প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে বিকল্প নৌপথ ব্যবহারের ব্যবস্থা করেছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, সেটি স্মারকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ইরানের জন্য ‘মর্যাদা ও সম্মানের’ সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

এদিকে, ইরানের আলোচনাকারী দলের সদস্যদের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন পেজেশকিয়ান। তিনি তাঁদের ‘নিষ্ঠাবান, দক্ষ ও পরিশ্রমী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে যে সমালোচনা করা হচ্ছে, সেটিকে অন্যায্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর থাকা বিভিন্ন বিধিনিষেধ কমানোর বিষয়েও তাঁর সরকার কাজ করছে বলে জানান পেজেশকিয়ান। সরকারের তিনটি শাখার প্রধান এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সঙ্গে সমন্বয় করে এ বিষয়ে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

তবে ইন্টারনেটের বিধিনিষেধ শিথিল করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট।