০৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫০

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা সম্মেলনে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধানরা  © সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনা ও আঞ্চলিক সংকটের প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক একটি ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) পবিত্র মক্কা নগরীর আল-সাফা প্রাসাদে আয়োজিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা সম্মেলনে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। খবর আল জাজিরার

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণ চালানো হলে তা তিনটি দেশের ওপরই আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই চুক্তিটি তিনটি দেশের ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্ব ও ইসলামি সংহতির ওপর ভিত্তি করে গঠিত। এটি তাদের যৌথ নিরাপত্তা জোরদার এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রবর্ধনে সম্মিলিত অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

চুক্তি স্বাক্ষরের আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির সৌদি আরবে পৌঁছে পবিত্র ওমরাহ পালন করেন। অন্যদিকে, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানও শুক্রবার সৌদি সফরে গিয়ে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে বৈঠকে মিলিত হন। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আলোচনার পর ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি চূড়ান্ত হলো।

বিশ্লেষকদের মতে, তেলসমৃদ্ধ ভূ-রাজনৈতিক পরাশক্তি সৌদি আরব, এশিয়ার একমাত্র পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র পাকিস্তান এবং ন্যাটোর অন্যতম সামরিক শক্তি ও উন্নত ড্রোন প্রযুক্তির অধিকারী তুরস্কের এই জোট মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।

সৌদি আরবের জনসংখ্যা বিষয়ক উপ-মন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে জানান, এই চুক্তিটি কোনো দেশের জন্য হুমকি নয় কিংবা এটি কোনো ধর্মীয় বা সামরিক অক্ষ তৈরির উদ্দেশ্যে গঠিত হয়নি; বরং এটি আত্মনির্ভরশীল প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নেওয়া একটি যৌথ উদ্যোগ।

অন্যদিকে, ইরানি সংসদ সদস্য ইব্রাহিম রেজাই সমালোচনা করে বলেন, কেবল কাগজপত্রের চুক্তি সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না, যদি না তারা তাদের পররাষ্ট্র নীতি সংশোধন করে। 

আল জাজিরার বলছে, তিনটি অন্যতম প্রধান মুসলিম দেশের এই সমন্বিত পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার একক নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে এক নতুন নিরাপত্তা জোটের সূচনা করল।