দাদা-দাদিকে হত্যার পর স্কুলে গিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি, থাইল্যান্ডে ৫ শিক্ষকসহ নিহত ৭
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে দাদা-দাদিকে গুলি করে হত্যার পর একটি স্কুলে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। এতে পাঁচ শিক্ষকসহ মোট সাতজন নিহত হয়েছেন। পরে ওই বন্দুকধারী শিক্ষার্থীও মারা গেছে। তবে পুলিশের গুলিতে নাকি আত্মহত্যায় তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ব্যাংককের কাছে ননতাবুরি প্রদেশের বাং ক্রুয়াই জেলার দেবসিরিন ননতাবুরি স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ননতাবুরির প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান দেচরাপি কংডি জানান, হামলাকারী নবম শ্রেণির ছাত্র। থাইল্যান্ডে এ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বয়স সাধারণত ১৪ বছরের কাছাকাছি।
থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী পাত্তানা প্রমফাত জানান, স্কুলে হামলা চালানোর আগে ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে তার দাদা ও দাদিকে গুলি করে হত্যা করে। পরে পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। হামলায় ব্যবহৃত ৯ মিলিমিটার পিস্তলটি তার দাদার ছিল। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন।
স্কুলে হামলায় নিহত পাঁচজনও শিক্ষক বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
হামলার সময় স্কুলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের দ্রুত ভবন থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। অনেক শিক্ষক একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে আহতদের ঘটনাস্থল ও অ্যাম্বুলেন্সে চিকিৎসা দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।
হামলার সময় থাই পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জরুরি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। ভবনের ভেতরে আটকে থাকা সবাইকে নিরাপদে লুকিয়ে থাকতে এবং দরজা-জানালা বন্ধ রেখে উদ্ধারকারী দলের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়। পরে পুলিশ জানায়, বন্দুকধারী স্কুলের কম্পিউটার রুমে অবস্থান করছে।
১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী রয়টার্সকে বলেন, প্রথমে তিনি গুলির শব্দকে আতশবাজির শব্দ বা কোনো কিছুতে জোরে ধাক্কা দেওয়ার শব্দ মনে করেছিলেন। পরে একটানা কয়েকটি গুলির শব্দ শুনতে পান।
ভয়াবহ এই ঘটনার পর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল। তিনি বলেন, এমন মর্মান্তিক ঘটনা কখনোই হওয়া উচিত নয় এবং দেশে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে সাধারণ মানুষের কাছে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানা তুলনামূলক বেশি হলেও দেশটির অস্ত্র আইন কঠোর। অবৈধ অস্ত্র বহনের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এরপরও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে একাধিক প্রাণঘাতী গুলির ঘটনা ঘটেছে।
দেবসিরিন স্কুল থাইল্যান্ডের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৮৮৫ সালে থাই রাজা চুলালংকর্ন এর মূল শাখাটি প্রতিষ্ঠা করেন। দেশটির বহু শীর্ষ কূটনীতিক, ক্রীড়াবিদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী এই ঐতিহ্যবাহী স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন।