০৬ আগস্ট ২০২৬, ১৪:২২

মোজতবা খামেনিকে নিয়ে গুঞ্জনের মাঝেই মুখ খুললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

ইরানে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও মোজতবা খামেনি   © সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে ঘিরে সম্পর্কের টানাপোড়েনের গুঞ্জনের মধ্যেই মুখ খুলেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, বর্তমানে মোজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ করা ‘খুবই কঠিন’। তবে জনসমক্ষে না থাকলেও তিনি এখনও ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট।

মোজতবা খামেনি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে। বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় আহত হওয়ার পর বাবার মৃত্যুর পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি খুব কমই জনসমক্ষে এসেছেন।

প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকলেও মোজতবা খামেনি ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

সংবাদ সংস্থা এএফপির বরাতে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা খুবই কঠিন। তবে যাই হোক, তার উপস্থিতি আমাদের জন্য বিশাল শক্তির উৎস। সেটিই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে সাহস জোগায়।’

মোজতবা খামেনি এতদিন মূলত লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত চলাকালে তার জনসমক্ষে না আসা এবং নীরব অবস্থানকে ঘিরে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে বলে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। গত মাসে নিজের বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। এতে সেই গুঞ্জন আরও জোরালো হয়।

তবে এসব আলোচনা নাকচ করে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানান, মোজতবা খামেনির সঙ্গে তার একাধিক ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি তার সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক করেছি। তার কাছ থেকে আন্তরিকতা এবং অত্যন্ত যুক্তিসংগত আচরণ পেয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু অসৎ ব্যক্তি তাকে ভিন্নভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন এবং তার একটি ভিন্ন চিত্র উপস্থাপন করছেন।’

পেজেশকিয়ানের এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও প্রেসিডেন্টের মধ্যে মতবিরোধের খবর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মোজতবা খামেনি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে একটি ‘চূড়ান্ত আল্টিমেটাম’ দিয়েছেন। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার আহমাদ বাহিদির অবস্থানকে সমর্থন করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তেহরানের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাতে ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের অন্যতম রাজনৈতিক কৌশল ছিল পদত্যাগের হুমকি দেওয়া। তবে মোজতবা খামেনি এবার সেই কৌশলকে গুরুত্ব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নীতিগত বিভিন্ন মতবিরোধের সময় পেজেশকিয়ান একাধিকবার পদত্যাগের হুমকি দিয়েছিলেন। এমনকি গত মে মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের আবেদনও করেছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত থেকে তার সরকারকে পুরোপুরি দূরে রাখা হয়েছে।

চ্যানেল ১৪-এর দাবি, মোজতবা খামেনির সাম্প্রতিক অবস্থান থেকে বোঝা যায়, তিনি এখন পুরোপুরি ইরানের সামরিক নেতৃত্বের পাশে রয়েছেন। ফলে কৌশলগত নীতিনির্ধারণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের প্রভাব অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে।

তবে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এসব প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করেনি। ফলে প্রেসিডেন্ট ও সর্বোচ্চ নেতার সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশিত দাবিগুলো এখনও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।