যুক্তরাষ্ট্রে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ইরফান আল-হুসাইনির মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার (NVIDIA) সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট ইরফান আল-হুসাইনি মারা গেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ডে নিজ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ইরফানের সহপাঠীরা জানান, গত ২২ জুলাই সকালে ইরফানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় নয় দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর তিনি মারা যান।
এদিকে ইরফানের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে তাঁর বন্ধু ও সহকর্মীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখা হলেও ওই সকালের ঘটনাপ্রবাহ ও সময়সূচি নিয়ে কিছু অসংগতি রয়েছে।
সহকর্মীদের তথ্যমতে, ঘটনার দিন সকালে ইরফান কর্মক্ষেত্রের একটি প্রেজেন্টেশনে অংশ নেন। প্রেজেন্টেশন শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর তিনি টিমের মেসেজিং গ্রুপে দিনের বাকি সময় ছুটি নেওয়ার কথা জানান। এর কিছু সময় পর তাঁর বাসার ঠিকানা থেকে পালো আল্টো এলাকার ৯১১ জরুরি নম্বরে কল করা হয় বলে জানা গেছে।
বন্ধুদের দাবি, চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও রক্ত সরবরাহ না থাকায় ইরফানের মস্তিষ্কে গুরুতর ও অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছিল। এসব তথ্যের ভিত্তিতে সেদিন সকালে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে তাঁরা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তবে ইরফানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলই চূড়ান্ত তথ্য দিতে পারে।
জানা যায়, কর্মজীবনে তিনি সফল ছিলেন এবং সম্প্রতি পদোন্নতিও পেয়েছিলেন। তাঁর পেশাগত জীবনে বড় ধরনের কোনো সংকট ছিল না বলে জানা গেছে। এছাড়া গত কয়েক বছর ধরে ইরফান তাঁর পরিবার, ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিচিতদের থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। দীর্ঘদিনের পরিচিত একজন মানুষের ক্ষেত্রে এ ধরনের হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ছিল অস্বাভাবিক।
ইরফানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং তদন্তের ফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তাঁর বন্ধু, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁরা #JusticeForIrfanAlHussaini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি জানাচ্ছেন।