যে শর্তে মুক্তি পেতে পারেন ইমরান খান
বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে পাকিস্তানের রাজনীতিতে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রধান ইমরান খানকে স্বাস্থ্যগত কারণে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সামরিক ও রাজনৈতিক মহলের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য অবজারভার’। তবে সম্ভাব্য মুক্তির বিনিময়ে তাকে রাজনীতি ছেড়ে বিদেশ চলে যাওয়া এবং কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য না দেওয়ার শর্ত দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান চলতি সপ্তাহে একাকী কারাবাসের তিন বছর পূর্ণ করবেন। ২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর থেকে তিনি বন্দি রয়েছেন।
দ্য অবজারভারের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সূত্র ও ইমরানের পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষের উদ্যোগে এই সমঝোতার কথা উঠেছে। দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে এমন আলোচনা হলেও ইমরান খানের ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, তিনি দেশত্যাগ বা রাজনীতি ছাড়ার মতো শর্ত কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।
ইমরান খানের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ জুলফি বুখারি জানান, একাকী কারাবাসে রাখার কারণে ইমরানের স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটছে। গত সাত মাস ধরে তাঁর পরিবার, আইনজীবী ও বোনদের সঙ্গে নিয়মিত দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এক বিবৃতিতে তার দুই ছেলে সুলায়মান ও কাসিম খান বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে চরম আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
তবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী সমঝোতার খবর নাকচ করে দাবি করেছেন, ইমরান খান সুস্থ আছেন এবং তার জামিনের বিষয়টি আদালতেই নির্ধারিত হবে।
২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৩ সালে কারাদণ্ড পান ইমরান খান। তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) অভিযোগ করে আসছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই তাকে বন্দি রাখা হয়েছে।