বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধস
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় একদিনেই ৬ শতাংশের বেশি কমেছে তেলের দাম। এতে মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে সরবরাহ-সংকটের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (৩ আগস্ট) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে প্রতি ব্যারেল ৮২ দশমিক ৪১ ডলারে নেমে আসে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর ঘোষণা দেওয়ার পরপরই বাজারে এই বড় পতন ঘটে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে তেহরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এই ঘোষণাকে বাজার ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করায় তেলের দাম দ্রুত কমে আসে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিতের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও। সোমবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স বেড়েছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নাসডাক ফিউচার্স বেড়েছে ০ দশমিক ৬ শতাংশ।
তবে এশিয়ার কয়েকটি বড় শেয়ারবাজারে ছিল ভিন্ন চিত্র। জাপানের নিক্কেই সূচক ১ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে জাপান বাদে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ারবাজার নিয়ে গঠিত এমএসসিআইয়ের প্রধান সূচকও দিনের শুরুতে ১ শতাংশ নিম্নমুখী ছিল।
এদিকে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে জাপানি ইয়েনের মানও শক্তিশালী হয়েছে। ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মূল্য ১ শতাংশের বেশি বেড়ে ১ ডলারে ১৫৫ দশমিক ৩৯ ইয়েনে দাঁড়িয়েছে। এতে বাজারে জাপান সরকারের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।