০৩ আগস্ট ২০২৬, ০০:৫৯

রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে প্রাণ হারালেন অনিক

খালেকুজ্জামান অনিক  © সংগৃহীত

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে প্রায় আড়াই বছর আগে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন কুষ্টিয়ার মেধাবী শিক্ষার্থী খালেকুজ্জামান অনিক (২৭)। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই তিনি ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে। রবিবার (২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচতলা ভবন থেকে নিচে পড়ে মৃত্যুর প্রায় এক মাস ১২ দিন পর দুপুরে তার মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। খবরটি পরিবারে পৌঁছানোর পর থেকেই নেমে আসে শোকের ছায়া।

নিহত অনিক কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের সওড়াতলা গ্রামের কৃষক মানোয়ার বিশ্বাসের ছেলে। তিনি রাশিয়ার চেলিয়াবিনস্কে অবস্থিত সাউথ ইউরাল স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন।

পরিবার সূত্র জানায়, গত ২১ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচতলা ভবন থেকে নিচে পড়ে অনিকের মৃত্যু হয়। তবে কীভাবে তিনি নিচে পড়ে যান, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কেউ পরিবারের কাছে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে এক মাস ১২ দিন পর তার মরদেহ দেশে আনা হয়।

এদিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কফিনবন্দি মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। শেষবারের মতো অনিককে দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী। বাদ জোহর স্থানীয় সওড়াতলা জামে মসজিদে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা উপস্থিত ছিলেন।

নিহতের চাচা মুফতি আলী হোসেন ফারুকী জানান, অনিক ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছিলেন। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর বৃত্তি নিয়ে প্রায় আড়াই বছর আগে উচ্চশিক্ষার জন্য রাশিয়ায় যান। অনিকের মা মারা গেছেন। পরিবারে বাবা ও বড় ভাই রয়েছেন। গত ২১ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচতলা ভবন থেকে পড়ে তার মৃত্যুর খবর পরিবার জানতে পারে।