ফ্রান্স-স্পেনের পর ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে ইউরোপের আরেক দেশ
প্রচণ্ড গরম ও তীব্র বাতাসের কারণে ফ্রান্স এবং স্পেনের পর দক্ষিণপূর্ব ইউরোপের দেশ গ্রিসের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ দাবানল। শনিবার (১আগস্ট) রাজধানী এথেন্সের নিকটবর্তী এলাকাসহ একাধিক স্থানে বড় আকারের ফায়ার সার্ভিস অভিযান ও জরুরি উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একের পর এক তৈরি হওয়া তাপদাহ ও বৃষ্টিহীনতার কারণে এ বছর ইউরোপজুড়ে রেকর্ড পরিমাণ দাবানল ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। খবর রয়টার্সের
গ্রিসের রাজধানী এথেন্স থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত পোর্তো জার্মেনো এবং বোইওটিয়া অঞ্চলে দাবানল মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় শত শত বাসিন্দাকে সমুদ্রপথে কোস্টগার্ডের নৌকায় করে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জরুরি সংকেত জারি করে অ্যাটিকা ও ইউবিয়া অঞ্চলে সর্বোচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ফ্রান্সেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। তিন দিন আগে নিয়ন্ত্রণে আসা দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ভার (Var) বিভাগের একটি দাবানল শুক্রবার পুনরায় জ্বলে উঠে মাত্র ছয় ঘণ্টায় এক হাজার হেক্টরের বেশি বনাঞ্চল পুড়িয়ে দিয়েছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ জানান, চলতি বছর দেশটিতে ইতিমধ্যেই ১ লাখ ১৯ হাজার হেক্টরেরও বেশি এলাকা দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া বর্দো অঞ্চলের আগুনে বিপন্ন বন্যপ্রাণীদের রক্ষা করতে চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী রক্ষকদের মতে, আগুনে লক্ষাধিক পশুপাখির মৃত্যু হয়েছে।
স্পেনের পরিস্থিতি মিশ্র রূপ নিয়েছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় লিওন প্রদেশে নতুন করে আগুনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও অন্যান্য কিছু অঞ্চলে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ক্যাস্তেলন প্রদেশে সন্দেহভাজন অগ্নিসংযোগের কারণে সৃষ্ট একটি আগুন সাত দিন পর নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
শুধু আগুনের বিধ্বংসী রূপই নয়, ইউরোপ জুড়ে মাত্রাতিরিক্ত তাপদাহের কারণে মৃত্যুর সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী,অস্ট্রিয়ায় জুনে রেকর্ড ৩৯৫ জন তাপদাহজনিত কারণে মারা গেছেন। যুক্তরাজ্যে চলতি বছরে এ পর্যন্ত আনুমানিক ২,৮৭৭ জন তাপদাহের কারণে প্রাণ হারিয়েছেন।
আর ফ্রান্সে ১৭ জুন থেকে ২ জুলাইয়ের মধ্যে তাপদাহের প্রভাবে ৫,৭৬৪ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। জার্মানির স্বাস্থ্য সংস্থা আরকেআই (RKI)-এর তথ্যমতে, অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে এ বছর দেশটিতে প্রায় ৯,৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তীব্র গরমের পর রেকর্ড তাপমাত্রা ও ঝোড়ো বাতাস অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের কাজকে অত্যন্ত দূরহ করে তুলেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের মতে, গত বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে এ বছর দাবানলের ক্ষয়ক্ষতি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে মারাত্মক রূপ নিয়েছে।