দেশের শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করা জেন-জি নেতা দীপকের বিয়ে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য
দেশজুড়ে আলোচিত জেন-জি নেতা অভিজিৎ দীপক। নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন। সেই আন্দোলনের জেরে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এবার এই তরুণ নেতার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়, বরং ব্যক্তিগত জীবন ও বিয়ে নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। তাঁর মা অনিতা দীপকে জানিয়েছেন, গত দুই বছর ধরেই দেশ-বিদেশ থেকে ছেলের জন্য অসংখ্য বিয়ের প্রস্তাব আসছে।
আন্দোলনের নায়ক থেকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু
মাত্র দুই মাস আগেও অভিজিৎ দীপককে খুব কম মানুষ চিনতেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি দেশের তরুণদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় মুখ। বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করা ২৬ বছর বয়সী এই তরুণ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠক।
দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৬ দিনের অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলনকে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই আন্দোলনের চাপেই তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।
দেশ-বিদেশ থেকে আসছে বিয়ের প্রস্তাব
সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিজিতের মা অনিতা দীপকে জানান, সাম্প্রতিক আন্দোলনের পর নয়, বরং প্রায় দুই বছর ধরেই তাঁর ছেলের জন্য বিয়ের প্রস্তাব আসছে।
তিনি বলেন, অভিজিৎ যখন বোস্টনে ছিলেন, তখন থেকেই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পরিবার থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসত। তবে ফোনে বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই তিনি হেসে বিষয়টি এড়িয়ে যেতেন।
অনিতা দীপকের ভাষ্য, বর্তমানে দেশের অনেক অভিভাবক অভিজিৎকে আদর্শ জামাই হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক তরুণীর কাছেও তিনি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।
বিয়ে নিয়ে অভিজিতের অবস্থান
পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের কথা বলা হলেও এ বিষয়ে অভিজিতের অবস্থান স্পষ্ট।
মায়ের ভাষায়, 'ও আমাদের পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, আগে পড়াশোনা শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়াবে, ভালো রোজগার করবে, তারপরই বিয়ের কথা ভাববে। পরিবারের টাকা আছে জানালেও ও বলে, নিজের উপার্জনেই সংসার চালানো উচিত। ও এতটাই সৎ যে জামাকাপড় ছাড়া শ্বশুরবাড়ির থেকে কিছুই নেবে না।'
সমাজসেবা ও আন্দোলনের পথ
অভিজিতের রাজনৈতিক পথচলা সহজ ছিল না। অনিতা দীপকে জানান, বোস্টনে থাকাকালীন 'ককরোচ জনতা পার্টি' গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। শুধু অভিজিৎই নন, ভারতে থাকা তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও ভয়ভীতি দেখানো হয়। নিরাপত্তার কারণে পরিবারের সদস্যদের কোঙ্কণের এক আত্মীয়ের বাড়িতে প্রায় ১৫ দিন আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল।
গত ৬ জুন দেশে ফিরে পূর্ণোদ্যমে নিট আন্দোলনে যুক্ত হন অভিজিৎ।
রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগেই সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। কোভিড মহামারির সময় নিজের উদ্যোগে ১৫টি অসচ্ছল আদিবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়ান এবং বিভিন্ন ধরনের সহায়তা করেন। পরিবারের দাবি, ছোটবেলা থেকেই তিনি শান্ত স্বভাবের এবং কখনো উচ্চস্বরে কথা বলেন না।
এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন
যন্তর মন্তরের আন্দোলন চলাকালে টাইফয়েডে আক্রান্ত হন অভিজিৎ। বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থ হলেও এখনো বাড়ি ফিরতে পারেননি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলে প্রতিদিন অল্প সময় কথা বলেন।
পরিবারের আশা, চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে তাঁর বিয়ে হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অভিজিতের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া সব এফআইআর প্রত্যাহার এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কিংবা বিয়ের প্রস্তাবের চেয়ে পড়াশোনা, আত্মনির্ভরতা ও নীতিবোধকেই জীবনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে এগিয়ে নিচ্ছেন এই তরুণ নেতা।