৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৯

চীনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেতে যাচ্ছে ইরান: রয়টার্স

কাঁধে বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র  © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের পর সামরিক প্রতিরক্ষা শক্তি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চীনের তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র (ম্যানপ্যাডস) পেতে যাচ্ছে ইরান। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

সূত্রগুলো জানায়, ৬ থেকে ৭ কোটি ডলার মূল্যের এই চুক্তির আওতায় ইরান ৩০০ থেকে ৪০০টি ম্যানপ্যাডস কিনছে। এর মধ্যে চীনের তৈরি কিউডব্লিউ-১২ এবং এফএন-১৬ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তায় দুর্বলতা প্রকাশ পাওয়ার পর এটি স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে তেহরানের অন্যতম বড় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্রগুলোর দাবি, হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ঝংছিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট এই চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ইরানের পক্ষ এবং চীনা সরবরাহকারীর মধ্যে সমন্বয় করেছে।

তবে বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে সূত্রগুলো নাম প্রকাশ করেনি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।

অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়টার্সকে জানিয়েছে, ‘এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাতের অবসানে চীন সবসময় গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে।’

ঝংছিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্টের মূল প্রতিষ্ঠান বেইজিংভিত্তিক ঝং ছিং বাও শাং গ্রুপের কাছেও মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েক মাসের সংঘাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা হয়েছে। এর জবাবে তেহরানও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই সংঘাতে উন্নত যুদ্ধবিমান ও নির্ভুল অস্ত্রের বিরুদ্ধে স্থায়ী সামরিক স্থাপনা রক্ষা করা কতটা কঠিন, সেটিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ করে দুই সপ্তাহের বিমান হামলা স্থগিত করলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে পাঁচ মাসের এই সংঘাতের সমাধান না হলে আবারও হামলা শুরু হতে পারে। যদিও এপ্রিল থেকে দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শত শত ম্যানপ্যাডস হাতে পেলে ইরানের স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে এটি চীন ও ইরানের সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে সূত্রগুলো বলছে, চুক্তি সই হলেও সরবরাহের সময়সূচি, চূড়ান্ত সংখ্যা এবং বাস্তবায়নের অন্যান্য বিষয় এখনো পরিবর্তিত হতে পারে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম দফার চালান পশ্চিম চীনের উরুমকি থেকে আকাশপথে পাঠানো হবে। এরপর পাকিস্তান হয়ে সেগুলো ইরানে পৌঁছাবে। তবে শেষ ধাপে সেগুলো আকাশপথে নাকি সড়কপথে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সূত্রগুলো বিস্তারিত জানায়নি।

এদিকে পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ বিভাগ (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘চীন থেকে পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানে বিমান প্রতিরক্ষা অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে—এমন সব জল্পনা-কল্পনা সম্পূর্ণ মনগড়া এবং মিথ্যা।’

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্রও এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের কোনো জবাব দেননি।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, গত দুই দশকে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও রাডার প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করলেও কাঁধে বহনযোগ্য বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব অস্ত্র দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরানো যায়, ছোট দল দিয়েই পরিচালনা করা সম্ভব এবং স্থায়ী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় এগুলো শত্রুর হামলায় ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকিও কম।