২৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৫১

১৮ বছরেই বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ অধ্যাপক, নিজের সমবয়সীদেরই পড়িয়েছেন প্রকৌশল

যুক্তরাষ্ট্রের নাথান থমাস গড়েছেন অনন্য এক বিশ্বরেকর্ড  © জিডব্লিউআর

যে বয়সে অধিকাংশ তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নেয়, সেই বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের নাথান থমাস গড়েছেন অনন্য এক বিশ্বরেকর্ড। মাত্র ১৮ বছর ৩৪৬ দিন বয়সে কলেজের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি হয়েছেন বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ অধ্যাপক। আরও অবাক করার বিষয় হলো, তিনি যে শিক্ষার্থীদের পড়িয়েছেন, তাঁদের বেশিরভাগই ছিলেন তাঁরই সমবয়সী।

সম্প্রতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস (জিডব্লিউআর) নাথান থমাসকে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ অধ্যাপক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মাধ্যমে ৩০৬ বছর ধরে থাকা স্কটিশ গণিতবিদ কলিন ম্যাকলরিনের রেকর্ড ভেঙেছেন তিনি। ১৭শ শতকে মাত্র ১৯ বছর বয়সে অধ্যাপক হওয়ার রেকর্ড গড়েছিলেন ম্যাকলরিন। এছাড়া ২০০৮ সালে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী অধ্যাপক হওয়া আলিয়া সাবুরের চেয়েও ১৬ দিন কম বয়সে অধ্যাপকের দায়িত্ব নেন নাথান।

নাথান ২০২৩ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি ডেড কলেজে ‘সি ফর ইঞ্জিনিয়ার্স’ (C for Engineers) কোর্স পড়ানো শুরু করেন। প্রথম দিন ক্লাসে ঢুকেই তিনি দেখেন, তাঁর সামনে বসে থাকা শিক্ষার্থীদের বয়স প্রায় তাঁর সমান। তবে বয়সকে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কম্পিউটিং ও প্রোগ্রামিংয়ের জটিল বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে দেন।
নাথানের শিক্ষাজীবন

সর্বকনিষ্ঠ এই অধ্যাপকের শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল আরও অনেক আগে। মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি একই কলেজে ডুয়াল-এনরোলমেন্ট প্রোগ্রামে ভর্তি হন। এরপর ১৪ বছর বয়সে ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর দুই ডিগ্রিই সম্মানের সঙ্গে সম্পন্ন করেন।

অধ্যাপনা সম্পর্কে নাথান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বয়স নয়, শেখার আগ্রহই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষার্থী যদি শেখার জন্য আন্তরিক হয়, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’ 

শিক্ষাদান সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যখন কোনো শিক্ষার্থী কঠিন একটি বিষয় হঠাৎ করে বুঝে ফেলতে পারে, সেটি সবচেয়ে আনন্দের।’ তাঁর মতে, অন্য কাউকে শেখাতে গিয়ে নিজেরও নতুনভাবে শেখা হয় এবং বিষয়টি আরও গভীরভাবে বোঝা সম্ভব হয়।

বাবা-মা দুজনই প্রকৌশলী হওয়ায় নাথানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই। পরিবারের সেই পরিবেশ থেকেই গণিত ও প্রকৌশলের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়েছিল তাঁর। বিশেষ করে তাঁর মায়ের সহজভাবে জটিল বিষয় বোঝানোর ক্ষমতা তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

ভিন্ন খবর: হৃদয়ের ঝড়ে জাফনার রোমাঞ্চকর জয়

অধ্যাপনার পাশাপাশি নাথান বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব মায়ামি স্কুল অব ল-এ আইন বিষয়ে (জুরিস ডক্টর) পড়াশোনা করছেন। ২০২৮ সালে আইন ডিগ্রি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে তাঁর। ভবিষ্যতে তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি (ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি) আইন নিয়ে কাজ করতে চান, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে।

প্রকৌশল শিক্ষা তাঁকে জটিল সমস্যাকে ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করতে শিখিয়েছে, যা এখন আইন অধ্যয়নেও সমানভাবে কাজে লাগছে বলে জানান তিনি। অবশ্য এত সাফল্যের পরও নিজেকে একজন সাধারণ ২১ বছর বয়সী তরুণ বলেই মনে করেন নাথান। অবসরে তিনি বাস্কেটবল, টেনিস ও গলফ খেলতে পছন্দ করেন। পাশাপাশি শাস্ত্রীয় পিয়ানো বাজান এবং গান শুনে সময় কাটান।

তরুণদের উদ্দেশে নাথান বলেন, অন্যের সঙ্গে নিজের পথের তুলনা না করে নিজের গতিতে এগিয়ে যাওয়া উচিত। তাঁর বিশ্বাস, প্রত্যেক মানুষের সাফল্যের সময় আলাদা। ধৈর্য ধরে নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে গেলে একসময় কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবেই। (সূত্র: জিডব্লিউআর)