অদৃশ্য পোকা থেকে বাঁচতে পোষা কুকুরের দ্বারস্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র
আমেরিকার আটলান্টিক উপকূলে আঙ্গুর খেত, ফলবাগান ও বনাঞ্চলের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ানো ক্ষতিকারক আক্রমণকারী পোকা—'স্পটেড ল্যান্টার্নফ্লাই' (Spotted Lanternfly)-এর থেকে নিস্তার পেতে শেষমেষ পোষা কুকুরের দ্বারস্থ হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। খালি চোখে দেখা না যাওয়া এই পোকা থেকে দেশটির বিলিয়ন ডলারের ওয়াইন শিল্পকে বাঁচাতে এবার এক অভিনব প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছে; আর সেই বাহিনীর মূল চালিকাশক্তি হলো সাধারণ পোষা কুকুর। খবর বিবিসির
মূলত চীন ও ভিয়েতনাম প্রজাতির ২৫ মিলিমিটার দীর্ঘ এই শোষক পোকাটি ২০১০-এর দশকে আমদানি পণ্যের মাধ্যমে আমেরিকায় প্রবেশ করে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯টি অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়া এই পোকা গাছের রস চুষে খায় এবং ক্ষতিকর ছত্রাক ছড়িয়ে আঙুর বাগানসহ বিভিন্ন ফসলের বিপুল ক্ষতি করে। কেবল ভার্জিনিয়াতেই এর কারণে বার্ষিক ৩২৪ মিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনকি ২০২৭ থেকে ২০৩৩ সালের মধ্যে এটি ক্যালিফোর্নিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে দেশটির ৩২০ বিলিয়ন ডলারের ওয়াইন শিল্প চরম হুমকির মুখে পড়বে।
এই সংকট মোকাবিলায় ‘ভার্জিনিয়া টেক’ বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ পোষা কুকুর ও তাদের মালিকদের নিয়ে একটি নাগরিক বিজ্ঞান (Citizen-Science) প্রকল্প চালু করেছে। পেশাদার ‘সনিফার ডগ’ তৈরি করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হলেও, পোষা কুকুরদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পোকাটির ডিম খুঁজে বের করার কাজে দারুণ সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে।
একটি ল্যান্টার্নফ্লাই ডিমের পুঞ্জে ৩০ থেকে ৫০টি ডিম থাকে, যা খালি চোখে মানুষের খুঁজে পাওয়া কঠিন হলেও কুকুরের প্রখর ঘ্রাণশক্তি দিয়ে সহজে শনাক্ত করা সম্ভব। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষায় কুকুরগুলো ৮২% এবং মাঠপর্যায়ে ৬১% সঠিকভাবে ডিমের পুঞ্জ শনাক্ত করেছে। এমনকি ঘন ঝোপঝাড়ে মানুষের তুলনায় কুকুর ৩ গুণ পর্যন্ত বেশি ডিম খুঁজে পেতে সক্ষম হয়েছে।
বর্তমানে ৮০টিরও বেশি সার্টিফাইড কুকুর-হ্যান্ডলার টিম মাঠে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখছে।