ককরোচ আন্দোলনে চালানো হয়েছিল একে-৪৭
প্রতিবেশী ভারতে প্রশ্নফাঁস ও বেকারত্ব নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে অ্যাসল্ট রাইফেল (একে-৪৭) থেকে শূন্যে গুলি ছোড়ার অভিযোগে এক পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করেছে বিহার রাজ্য পুলিশ। পরীক্ষা কেলেঙ্কারির জেরে সম্প্রতি দেশটির শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করার পর দেশজুড়ে চলমান ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এটি নতুন এক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। খবর রয়টার্সের
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, শনিবার বিহারের সিওয়ান শহরে দাঙ্গা নিরোধক পোশাক পরিহিত এক পুলিশ সদস্য একে-৪৭ (AK-47) রাইফেল উঁচিয়ে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের দিকে দৌড়ে যান এবং অন্তত তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করেন। বিষয়টি পরবর্তীতে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
বিহার পুলিশের ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) নিলেশ কুমার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর আন্দোলনের মুখে এভাবে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ‘এ অস্ত্র ব্যবহারে চরম ভুল হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর এটি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তাই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গত মে মাসে অনুষ্ঠিত মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলে আসছে। অরাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে বিক্ষোভের মুখে শনিবার ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। আন্দোলনের পটভূমিতে শুধু প্রশ্নফাঁসই নয়, তরুণদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এআই-এর (AI) প্রভাবে চাকরি হারানোর ভয়ও বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এদিকে সোমবার এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের পার্লামেন্টে ব্যাপক হট্টগোল হয়। বিরোধী কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সংসদে অভিযোগ করে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর এ ধরনের হামলা ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে অন্যতম গুরুতর আক্রমণ। শিক্ষার্থীদের অপরাধীর মতো পেটাতে ও একে-৪৭ চালাতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।’
একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়াও এক অনুষ্ঠানে অসন্তোষ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন যে, দেশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকারের পরিধি দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে।