২৫ জুলাই ২০২৬, ১১:২১

মাছ ধরে কনটেন্ট বানান, সাগরে ডুব দিতেই হাঙরের হামলা; ৪ অস্ত্রোপচারের পর সুস্থতার পথে গিবস

হাঙরের হাত থেকে বাঁচলেন গিবস   © সংগৃহীত

ফিজিতে মাছ ধরার কনটেন্ট তৈরি করতে গিয়ে ডাইভিংয়ের সময় ভয়াবহ হাঙরের হামলার শিকার হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতা ও ইনফ্লুয়েন্সার হেনরি গিবস। প্রাণঘাতী সেই হামলা থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়ার পর তার চারটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

পিপল ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ জুলাই প্রায় দুই সপ্তাহ পর প্রথমবারের মতো নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন গিবস। হাসপাতালের পাঁচটি ছবি শেয়ার করে তিনি জানান, চলতি মাসের শুরুতে ফিজি দ্বীপপুঞ্জে প্রথমবার ডাইভিং করতে গিয়ে ভয়াবহ হাঙরের হামলার মুখে পড়েন।

পোস্টে গিবস জানান, ফিজিতে তার প্রথম ডাইভই ভয়ঙ্কর এক দুর্ঘটনায় পরিণত হয়েছিল। হাঙরের আক্রমণের পর তার দুই বন্ধু দ্রুত তাকে পানির বাইরে তুলে আনেন এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। তাদের উপস্থিত বুদ্ধি ও দ্রুত পদক্ষেপই তার জীবন বাঁচাতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তার চারটি অস্ত্রোপচার করেন। হামলায় তার ডান পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে চিকিৎসার অংশ হিসেবে ত্বক প্রতিস্থাপন (স্কিন গ্রাফট) করা হয়েছে।

বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গিবস। চিকিৎসকদের মতে, সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন।

তিনি বলেন, ‘সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে আমি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠব। এজন্য আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ।’

এত বড় দুর্ঘটনার পরও হাঙরের প্রতি কোনো ক্ষোভ নেই বলে জানিয়েছেন এই নিউজিল্যান্ডের কনটেন্ট নির্মাতা।

তিনি বলেন, ‘আমি হাঙরের পরিবেশেই ছিলাম এবং সেটির খাবার শিকার করার চেষ্টা করছিলাম। তাই আমি হাঙরের প্রতি কোনো খারাপ অনুভূতি পোষণ করি না।’

ঘটনাটিকে তিনি ‘ভুল সময়ে ভুল জায়গায় উপস্থিত থাকার’ ফল বলে উল্লেখ করেন।

গিবস জানান, পুরো ঘটনার ভিডিও তার কাছে রয়েছে। ভবিষ্যতে সেই ভিডিও প্রকাশ করার সময় এই দুর্ঘটনা থেকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগুলোও সবার সঙ্গে ভাগ করে নেবেন।

তিনি বলেন, ‘আমি চাই, এই অভিজ্ঞতা অন্যদের একই ধরনের বিপজ্জনক পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে সাহায্য করুক। পাশাপাশি এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে সঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়, সেটিও মানুষ জানতে পারবে।’

দুর্ঘটনার পর গত ছয় দিনে ফিজি ও নিউজিল্যান্ড থেকে অসংখ্য মানুষ তার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সমর্থন জানিয়েছেন।

সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে গিবস বলেন, ‘আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থন আমার জন্য সত্যিই অনেক বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।’

জীবনের প্রতি নতুন উপলব্ধির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তার ভাষায়, ‘আমি নিজেকে ভীষণ সৌভাগ্যবান মনে করছি। এই ঘটনার পর জীবনের প্রতি আমার মূল্যায়ন আগের চেয়ে আরও অনেক বেশি বেড়ে গেছে।’