২৩ জুলাই ২০২৬, ২১:১৭

যন্তর মন্তর ও আশপাশে ইন্টারনেট বন্ধ, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে বন্ধ ইন্টারনেট সেবা  © সংগৃহীত

নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অপরাধে উসকানি ঠেকানোর কারণ দেখিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানী নয়াদিল্লির মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় ১৬ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা দুটি পৃথক আদেশ অনুযায়ী, সকাল ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত যন্তর মন্তরকে কেন্দ্র করে দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা স্থগিত রাখা হয়। বর্তমানে ওই এলাকায় শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন চলছে। তবে বাস্তবে যন্তর মন্তর থেকে দুই কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত মান্ডি হাউস মেট্রো স্টেশন এলাকাতেও মোবাইল ডেটা সেবা বিঘ্নিত হয়েছে।

টেলিকম খাতের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, প্রথমে ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ বিকেল ৪টা পর্যন্ত কার্যকর ছিল। পরে সেটির মেয়াদ বাড়িয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়।

বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই মধ্য দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ অনিয়মিত হয়ে পড়ে, কোথাও কোথাও পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে শুধু আন্দোলনকারীরাই নয়, অফিসগামী ও ব্যবসায়িক কাজে এলাকায় অবস্থান করা সাধারণ মানুষও ভোগান্তিতে পড়েন। হাজারো আন্দোলনকারী ফোনকল, বার্তা আদান-প্রদান কিংবা অনলাইন যোগাযোগ করতে পারেননি।

মান্ডি হাউস এলাকায় অবস্থানরত এক এয়ারটেল গ্রাহকের মোবাইলে পাঠানো বার্তায় বলা হয়, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আপনার এলাকায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখিত। টিম এয়ারটেল।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি এড়ানো, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উসকানি প্রতিরোধের স্বার্থে মোবাইল ইন্টারনেট (সব প্রযুক্তি) সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা প্রয়োজন।

ভারতে বিক্ষোভ বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে এর আগেও একাধিকবার নির্দিষ্ট এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, এতে গুজব ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা মেলে। তবে সমালোচকদের মতে, এমন পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ডিজিটাল লেনদেন, অ্যাপভিত্তিক পরিবহন, যোগাযোগ, নেভিগেশন এবং জরুরি অনলাইন সেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করে। পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষেরও আর্থিক ক্ষতি হয়।

ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় এলাকার অনেক হোটেল শুধু নগদ অর্থে পার্কিং ফি গ্রহণ করেছে। দোকানিরা জানিয়েছেন, ইউপিআই মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করতে না পারায় ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া হোয়াটসঅ্যাপে কল বা বার্তা পাঠানো সম্ভব হয়নি, এমনকি মোবাইল নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত চাপের কারণে স্বাভাবিক ফোনকলেও বিঘ্ন দেখা দেয়।

এক চা বিক্রেতা বলেন, ‘আমার ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষ ছোটখাটো কেনাকাটায় সাধারণত ইউপিআই ব্যবহার করে। কিন্তু ইন্টারনেট না থাকায় সেই অর্থও নিতে পারছি না।’

এ বিষয়ে এয়ারটেল, রিলায়েন্স জিও, ভোডাফোন আইডিয়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠানো প্রশ্নের কোনো জবাব সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত ২০ জুলাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন জোরালো হওয়ার সময়ও মধ্য দিল্লির কয়েকটি এলাকায় একই ধরনের মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছিল।

দিল্লিভিত্তিক ডিজিটাল অধিকারবিষয়ক সংগঠন ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন ( আইএফএফ) আগের ইন্টারনেট বন্ধের সমালোচনা করে বলেছিল, কোন কর্তৃপক্ষ, কী কারণে, কোন এলাকায়, কত সময়ের জন্য এবং কোন সেবা বন্ধ করেছে এসব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ না করা হলে তা জবাবদিহিহীন সিদ্ধান্তে পরিণত হয়।

সংগঠনটি আরও জানায়, ২০২০ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে বলেছিল, টেলিযোগাযোগ সেবা স্থগিতের প্রতিটি আদেশ লিখিত কারণসহ প্রকাশ করতে হবে। আদালত ইন্টারনেটের মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ব্যবসা পরিচালনার অধিকারকে সংবিধান-সুরক্ষিত অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

টেলিকমিউনিকেশনস (টেম্পোরারি সাসপেনশন অব সার্ভিসেস) রুলস, ২০২৪ অনুযায়ী, কেবল কেন্দ্রীয় বা রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব, অথবা বিশেষ অনিবার্য পরিস্থিতিতে যুগ্মসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দিতে পারেন।

সর্বশেষ নির্দেশনা টেলিকমিউনিকেশন আইন, ২০২৩-এর ধারা ২০(২) (খ) এবং টেলিকমিউনিকেশনস (টেম্পোরারি সাসপেনশন অব সার্ভিসেস) রুলস, ২০২৪-এর আওতায় জারি করা হয়েছে।