২৩ জুলাই ২০২৬, ১১:০২

নরেন্দ্র মোদিকে এক হাত নিলেন রাহুল গান্ধী

নরেন্দ্র মোদি ও রাহুল গান্ধী   © সংগৃহীত

প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বড় ঘোষণার পরই পাল্টা আক্রমণ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় প্রশ্নফাঁস মামলার দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দেন মোদি। তবে রাহুলের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই।

বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নরেন্দ্র মোদি লেখেন, ‘আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই।’

তিনি আরও লেখেন, ‘প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের আমি নির্দেশ দিয়েছি।’

শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার ধারাবাহিকভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আমাদের ধারাবাহিক পদক্ষেপের এটি একটি অংশ। যারা আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

মোদির এই ঘোষণার সময় রাজধানীতে প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলছিল। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং বিরোধী দলগুলো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই এক্সে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান রাহুল গান্ধী। তিনি লেখেন, ‘আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন আপনিই। আপনি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি দখল ও ধ্বংস করার সুযোগ দিয়েছেন এবং এর জন্য দায়ীদের রক্ষা করেছেন।’

শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, 'শিক্ষার্থীদের দাবি একেবারে স্পষ্ট— ১. ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে হবে। ২. শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। ৩. যারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।'

এর আগে বুধবার রাহুল গান্ধী দাবি করেন, গত ১০ বছরে ভারতে ১৫০টির বেশি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজনেরও দণ্ড হয়নি।

এমন পরিস্থিতিতেই প্রশ্নফাঁসের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ও দোষীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

তবে এই ঘোষণার পরও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে সরে আসেনি সিজেপি। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তারা লিখেছে, 'ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।'

এর আগে মঙ্গলবার এনডিএর বৈঠকেও প্রশ্নফাঁসের ঘটনা নিয়ে কঠোর অবস্থান নেন নরেন্দ্র মোদি। সে সময় তিনি প্রশ্নফাঁসকে ‘ঘোর পাপ’ বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে বিরোধী দলগুলো প্রশ্নফাঁস এবং রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অভিযানের বিষয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দাবি করে আসছে। পাশাপাশি তারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে সংসদে এ বিষয়ে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে তুলে ধরেছে।

অন্যদিকে সরকার জানিয়েছে, তারা সংসদে এ বিষয়ে আলোচনায় প্রস্তুত। তবে তাদের অভিযোগ, বিরোধী দল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে শর্ত করে আলোচনার পথ আটকে দিচ্ছে।