২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৪০

বিধানসভা থেকে চ্যাংদোলা করে বের করা হল কুণাল ঘোষকে

কুণাল ঘোষ   © সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নজিরবিহীন এক ঘটনার জন্ম হয়েছে। অধিবেশন চলাকালে বারবার সতর্ক করার পরও আসনে না ফেরায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষকে মার্শাল ডেকে চ্যাংদোলা করে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধানসভার ভেতরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার বিধানসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামান। সে সময় হঠাৎ নিজের আসন ছেড়ে তার সামনে গিয়ে দাঁড়ান কুণাল ঘোষ। তিনি প্রশ্ন করতে থাকেন, ‘বক্তা তালিকা থেকে আমার নাম কাটলেন কেন? নাম কাটলেন কেন?’

আখরুজ্জামান কোনো জবাব না দিয়ে নিজের বক্তব্য চালিয়ে যান। তবে কুণাল ঘোষও একই প্রশ্ন বারবার করতে থাকেন। এতে বিধানসভার পরিবেশ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু কয়েক দফা কুণাল ঘোষকে আসনে ফিরে যেতে বলেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমি কিন্তু বলছি আপনি না বসলে বের করে দেব।’

কুণাল ঘোষ সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে আগের অবস্থানেই থাকেন। এরপর স্পিকারের নির্দেশে মার্শালরা তাকে কক্ষ থেকে চ্যাংদোলা করে বের করে দেন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে একজন বিধায়ককে এভাবে শারীরিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা খুবই বিরল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এদিকে একই দিনে লোকসভা থেকেও তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

কুণাল ঘোষকে বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ ঘটনার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিবাদ অনেক রকম হয়। এখানে পাঁচবার ও আটবারের বিধায়কও আছে। এমন অসভ্যতামি আগে দেখিনি। আমরাও বিরোধী দলে ছিলাম। আখরুজ্জামান দীর্ঘদিন বিধানসভার এমএলএ। আজ যেভাবে মমতাপন্থী তৃণমূলের সদস্য ওঁকে যেভাবে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে এর তীব্র নিন্দা করছি।’