লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা, আগুন
লোহিত সাগরে সৌদি পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা নিশ্চিত করেছে সৌদি আরব। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। তবে এতে কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বুধবার (২২ জুলাই) সৌদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ এবং যুক্তরাজ্যের ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস এ তথ্য জানিয়েছে।
এসপিএর খবরে বলা হয়, সৌদি মালিকানাধীন এনসেলিয়া নামের জাহাজটি লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলের সময় হামলার শিকার হয়। সৌদি পাবলিক ট্রান্সপোর্ট অথরিটির এক কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, হামলায় জাহাজটির সামনের অংশে আগুন ধরে যায়।
কর্মকর্তা জানান, জাহাজের সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন। জাহাজ, নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ইউকেএমটিও জানায়, ২০ জুলাই সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর ছাড়ার পর লোহিত সাগরে আল শোকাইয়ার প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজটিতে আঘাত হানে। এতে জাহাজে আগুন লাগে। নাবিকেরা নিজেরাই আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড টেক জানিয়েছে, জাহাজটির ডান পাশে (স্টারবোর্ড) আঘাত লাগে। তবে কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করে। তারা দাবি করে, সৌদি বন্দর অবরোধ অমান্য করায় সৌদি মালিকানাধীন দুটি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে।
হুথিদের দাবি, এনসেলিয়া ছাড়াও লায়লা নামের বাহরি মালিকানাধীন একটি অতি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজেও ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে এবং সেখানে আগুন লাগে। তবে দ্বিতীয় হামলার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
২০০৭ সালে নির্মিত লায়লা জাহাজটি সর্বশেষ ১৭ জুলাই স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থায় এআইএস নিজের অবস্থান জানিয়েছিল। সেটি এনসেলিয়ার বর্তমান অবস্থানের পশ্চিমে ছিল।
সোমবার হুথিরা সৌদি আরবের বন্দরগুলো অবরোধের ঘোষণা দেয়। পরদিন তাদের হিউম্যানিটারিয়ান অপারেশনস কো-অর্ডিনেশন সেন্টার বিভিন্ন শিপিং কোম্পানিকে ই-মেইল পাঠিয়ে জানায়, সৌদি বন্দরে পণ্য ওঠানো বা নামানো জাহাজ নিষিদ্ধ। এমন জাহাজ ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতার মধ্যে যেকোনো স্থানে হামলার লক্ষ্য হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।
হুথিদের ভাষ্য, সম্প্রতি সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি হামলা এবং দুই পক্ষের দীর্ঘ ১২ বছরের সংঘাতের জবাব হিসেবেই এ অবরোধ ঘোষণা করা হয়েছে। হুমকির পর ইয়ানবু থেকে তেল নিয়ে যাওয়া বা সৌদি আরবের দিকে যাওয়া কয়েকটি ট্যাংকার মাঝপথ থেকেই গতিপথ পরিবর্তন করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের কারণে হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় সৌদি আরব এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি অপরিশোধিত তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে ইয়ানবু বন্দরে এনে লোহিত সাগর দিয়ে রপ্তানি করছে। ইরান-সংকট শুরুর পর এই রুটে তেল পরিবহনের পরিমাণ প্রায় চার গুণ বেড়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে গাজায় হামাসের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে হুথিরা। এতে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে লোহিত সাগর হয়ে চলাচলকারী অনেক জাহাজকে দীর্ঘ কেপ অব গুড হোপ রুট ব্যবহার করতে বাধ্য হতে হয়েছে।
বাণিজ্যিক জাহাজে হুথিদের সর্বশেষ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া হামলার ঘটনা ঘটেছিল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে। তখন নেদারল্যান্ডসের পতাকাবাহী শুষ্ক পণ্যবাহী জাহাজ মিনার্ভাগ্রাখট হামলার শিকার হয়। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা