২২ জুলাই ২০২৬, ১৭:৩২

সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ককরোচ আন্দোলনকারীরা

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত ভারতের শিক্ষার্থীরা  © সংগৃহীত

ভারতের কেন্দ্রীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা নীটের (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে টানা তৃতীয় দিনের মতো উত্তাল রয়েছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যেই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (CJP) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তিন দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠকে বসতে যাচ্ছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।

বুধবার (২২ জুলাই) সংসদীয় বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে গত সোমবারের মতো এবার আর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার বাসভবনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে না; বৈঠকের নির্দিষ্ট স্থান এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি।

কিরেন রিজিজু নিশ্চিত করেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত আলোচনা করতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের আন্দোলনকারীদের দাবিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সরকারি সূত্রগুলো। তাঁদের দাবি, অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তাৎক্ষণিক আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে।

এদিকে, গত সোমবার পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের ঘটনার পরও আজ টানা তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে, আন্দোলনকারীদের হামলায় অন্তত ডজনখানেক নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশ অন্যায়ভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে।

উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতিতে এনডিএ (NDA) সংসদীয় দলের ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কড়া বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন মন্ত্রী রিজিজু। তিনি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বরাতে রিজিজু বলেন, ‘রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ও দেশের কল্যাণ রক্ষায় কাজ করা প্রতিটি সংসদ সদস্যের যৌথ দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী এনডিএ শরিকদের ঐক্যবদ্ধ থেকে আইন প্রণয়নমূলক কাজে সমর্থনের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোকে সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।’