২২ জুলাই ২০২৬, ১৬:০৫

মামদানির হাতে নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের এখতিয়ার নেই

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি  © সংগৃহীত

‘নিউইয়র্কে এলে নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করা হবে’- নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির এমন বক্তব্যের পর নড়েচড়ে বসেছে ডোনাল্ড নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন। মামদানির সেই বক্তব্যের জেরে ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুর পক্ষ নিয়ে জোর গলায় বলেছিলেন নেতানিয়াহু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে তাকে গ্রেফতার করা হবে না। ট্রাম্পের সেই বক্তব্যের পর এবার নতুন করে পাল্টা বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন মামদানি। 

নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের বিষয়ে ট্রাম্পেরে বক্তব্যে পাল্টা জবাব দিয়ে বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন নিউইর্য়কের মেয়র জোহরান মামদানি। সেখানে নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী আখ্যা দিয়ে মামদানি বলেন, ‘নেতানিয়াহু,পরিকল্পিতভাবে করা ঠান্ডামাথার গণহত্যার মুল কৌশলীকে নিউইয়র্কে স্বাগতম জানানো হবে না। বিদ্যমান আইনের আওতায় আমাদের প্রশাসন সব দিক পর্যালোচনা করে দেখেছে যে, নেতানিয়াহু এখানে এলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করার মতো স্বাধীন আইনি ক্ষমতা নিউইয়র্ক সিটির নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের সেই ক্ষমতা রয়েছে। আমি কেন্দ্রীয় সরকারকে আইসিসিতে যোগ দিয়ে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

এর আগে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা নিয়ে নিউইয়র্ক সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করছেন বলে জানান তিনি। তবে গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবস্থায় নেতানিয়াহুকে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না।

মামদানির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন এক ক্ষুব্ধ বার্তায় বলেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে! আপনাকে নিউইয়র্কের অধিবাসীদের সেবা করার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে, হামাসের প্রচার চালানোর জন্য নয়। নিজের কাজ করুন।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। ট্রানজিট ও ত্রাণ সহায়তা আটকে রেখে গাজায় অনাহারকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সরাসরি হামলার অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে, যা ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসছে।