২২ জুলাই ২০২৬, ১৪:৪৫

বিয়ে করলেন বিশ্বের জনপ্রিয় ইউটিউবার মিস্টার বিস্ট

মিস্টার বিস্ট ও থিয়া বুইসেন  © সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইউটিউবারদের একজন মিস্টার বিস্ট বিয়ে করেছেন তার দীর্ঘদিনের প্রেমিকা থিয়া বুইসেনকে। পারিবারিক সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসের ধনকুবের স্যার রিচার্ড ব্র্যানসনের ব্যক্তিগত নেকার আইল্যান্ডে সপ্তাহব্যাপী একান্ত আয়োজনে সম্পন্ন হয় তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান।

বিনোদনবিষয়ক সাময়িকী পিপল এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। বিশ্বজুড়ে শত কোটি দর্শকের পরিচিত মুখ হলেও ২৮ বছর বয়সী মিস্টার বিস্ট, যার প্রকৃত নাম জিমি ডোনাল্ডসন, বিয়েটিকে পুরোপুরি ব্যক্তিগত রাখতে চেয়েছিলেন। তাই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয় মাত্র ৭০ জন অতিথিকে, যাদের মধ্যে ছিলেন দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা। কোনো লাইভস্ট্রিম, ইউটিউব ভিডিও বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা ছিল না। পুরো অনুষ্ঠান ধারণ করেন শুধু একজন পেশাদার আলোকচিত্রী।

বিয়ের আগে অতিথিরা কয়েক দিন ধরে ৭৪ একরের নেকার আইল্যান্ডে কাইটসার্ফিং, স্নরকেলিংসহ বিভিন্ন অবকাশযাপনের সুযোগ উপভোগ করেন। পরে পরিবারের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।

দক্ষিণ আফ্রিকার গেমার, লেখক ও কনটেন্ট নির্মাতা থিয়া বুইসেন বিয়েতে পরেছিলেন নিকোল ও ফেলিসিয়া কুতুর এর তৈরি বিশেষ গাউন। আর জিমি ডোনাল্ডসন পরেছিলেন রালফ লরেন এর টাক্সেডো।

বিয়ের সংবর্ধনায় পরিবেশন করা হয় সুশি, ওয়াগিউ গরুর মাংস ও তাজা সামুদ্রিক খাবার। নবদম্পতির প্রথম নাচ ছিল লেডি গাগা ও ব্রুনো মার্সের জনপ্রিয় গান ‘Die With a Smile’ এর সঙ্গে। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা তাস ও বোর্ড গেম খেলায় মেতে ওঠেন। থিয়া মজা করে একেবারে নার্ডদের পার্টি বলে মন্তব্য করেন।

২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় এক অভিন্ন বন্ধুর মাধ্যমে প্রথম পরিচয় হয় জিমি ও থিয়ার। সে সময় দেশটিতে সফরে গিয়েছিলেন মিস্টার বিস্ট।

সেই প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে থিয়া বলেন, তার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর আমি অবাক হয়েছিলাম। তিনি খুবই সাধারণ, বিনয়ী ও বুদ্ধিমান একজন মানুষ। আমি ভাবতাম ইউটিউবাররা হয়তো শুধু ক্যামেরার সামনেই একটি চরিত্র হয়ে থাকেন। কিন্তু জিমির মধ্যে কোনো অহংকার দেখিনি। তিনি সত্যিই অসাধারণ একজন মানুষ।

অন্যদিকে মিস্টার বিস্ট জানান, প্রথম দেখাতেই দুজনের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) এ থিয়াকে বার্তা পাঠান তিনি। এরপরই শুরু হয় তাদের দীর্ঘ দূরত্বের প্রেম।

২০২৪ সালের বড়দিনে দুই পরিবারের সদস্যদের সামনে থিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেন জিমি। সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “প্রথমে ইচ্ছা করে একটি বড় বাক্স ফেলে শব্দ করি, যাতে সে কিছুই বুঝতে না পারে। এরপর আংটি রাখা আসল বাক্সটি বের করে হাঁটু গেড়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিই।”

বাগদানের পর দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিস্টার বিস্ট বলেছিলেন, বিয়েটি তিনি সবসময় ব্যক্তিগত রাখতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, এটি শুধু পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের নিয়ে হবে। কিছু সময়ের জন্য সবকিছু থেকে দূরে থেকে প্রিয় মানুষদের সঙ্গে মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে চেয়েছি।

থিয়ার বলেন, তাদের বিয়ের আয়োজন ছিল স্বপ্নের মতো। শুনতে ক্লিশে লাগতে পারে, কিন্তু পুরো অভিজ্ঞতাটি ছিল স্বর্গের মতো। আমাদের কাছে বিয়েটি আসলে শুধু আনুষ্ঠানিকতা। সম্পর্কের শুরু থেকেই আমরা একে বিয়ের লক্ষ্য নিয়েই এগিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, জিমি আমার পরিবারের সবাইকে আপন করে নেওয়ার জন্য আন্তরিক চেষ্টা করেছে। প্রতিটি অতিথিকে স্বাচ্ছন্দ্য দিতে সে নিজে খেয়াল রেখেছে। পুরো আয়োজনটি আমার কাছে আরও বেশি বিশেষ হয়ে উঠেছে, আর এতে আমি তাকে আরও বেশি ভালোবাসতে শিখেছি।