২২ জুলাই ২০২৬, ১১:৫১

সকাল থেকেই দিল্লিতে বাড়ছে ভিড়, পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন ছড়াল বিদেশেও

দিল্লির যন্তর মন্তরে সকাল থেকেই বাড়ছে জড়ো হয়েছেন বিক্ষোভকারীরা  © সংগৃহীত

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে শুরু হওয়া আন্দোলন আরও বড় আকার নিয়েছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে বুধবার সকাল থেকেই বাড়তে শুরু করেছে বিক্ষোভকারীদের ভিড়। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। শুধু ভারতেই নয়, এই দাবিতে আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে বিদেশেও। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, সান হোসে, যুক্তরাজ্যের লন্ডন এবং আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে বিক্ষোভ হয়েছে।

এদিকে হাসপাতালে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তার সমর্থকেরা যন্তর মন্তর ছাড়তে নারাজ।

অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোও আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে। দিল্লিতে ছাত্র-যুবদের মিছিলে পুলিশি লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

আটকের পর রাহুল সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানান। এ ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র কটাক্ষ করে বলেছেন, সরকারের কাছে এই আন্দোলন ‘আউট অব সিলেবাস’।

সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, সোনম ওয়াংচুকের প্রতি সংহতি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অধিকারকর্মী সংগঠনের সদস্যরা নিউইয়র্ক ও সান হোসেতে বিক্ষোভ করেন।

‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’ নামের সংগঠনটির সদস্যরা নিউইয়র্কের ইউনিয়ন স্কয়ার এবং সান হোসের মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির সামনে জড়ো হন। সেখান থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়।

একই দাবিতে লন্ডন ও ডাবলিনেও বিক্ষোভ হয়েছে বলে জানা গেছে। নিটে প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে সোমবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) সংসদ অভিযান কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দিল্লি।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে তাঁদের বাধা দেয়। যদিও শেষ পর্যন্ত তাঁরা সংসদ ভবনের কাছে পৌঁছাতে পারেননি। সিজেপি ও বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ দমনমূলক আচরণ করেছে।

এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাস্তায় নামেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা। পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের অবস্থান কর্মসূচি থেকে রাহুলসহ কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়। পরে রাতে যন্তর মন্তরে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আটক থাকা অবস্থায় একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সেখানে তিনি সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানান। রাহুল শুধু শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগই নয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবিও তোলেন।

এ ছাড়া সোমবারের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা এফআইআর প্রত্যাহার এবং পুলিশি আচরণের জন্য সরকারের ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান তিনি।

রাহুলের আরও দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সংসদে এ বিষয়ে বিবৃতি দিতে হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি নিয়েও সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে আলোচনা করতে হবে।

এর আগে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচিতে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘আরশোলাদের’ পাশে থাকার কথা বলেছিলেন। এর পরদিনই ছাত্র-যুবদের মিছিলে পুলিশি আচরণ নিয়ে আলোচনার দাবিতে রাজ্যসভায় নোটিশ দিয়েছেন তৃণমূলের মুখ্যসচেতক নাদিমুল হক। তথ্যসূত্র: আনন্দ বাজার