২১ জুলাই ২০২৬, ১৪:৩১

বসতে চেয়েছিলেন বিয়ের পিঁড়িতে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ গেল নাবিকের

ভারতীয় নাবিক   © সংগৃহীত

আর মাত্র দুই মাস পরই বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল ২৬ বছর বয়সী ভারতীয় নাবিক অখিল জয়ানের। তিন মাস আগে সম্পন্ন হয়েছিল বাগদানও। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। এই হামলায় নিহত চার ভারতীয় নাবিকের একজন ছিলেন অখিল।

রবিবার ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরের কাছে গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রাশিয়া। হামলায় মোট ১০ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে চারজন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। আরেক ভারতীয় নাবিক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

২৬ বছর বয়সী অখিল জয়ান কেরালার কাসারগড় জেলার ভেল্লারিকুন্ডুর বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। মাত্র তিন মাস আগে তার বাগদান হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা আগামী দুই মাসের মধ্যেই তার বিয়ের আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

অখিলের নিজ এলাকা বালাল গ্রাম পঞ্চায়েতের ওয়ার্ড সদস্য শবি জোসেফ বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ‘কনে আলাপ্পুঝা জেলার বাসিন্দা। অখিল এক মাস আগেই কর্মস্থলে ফিরেছিলেন।’

তিনি জানান, অখিলের বাবা একটি বৈদ্যুতিক পণ্যের দোকান পরিচালনা করেন এবং মা একজন বিমা এজেন্ট। সম্প্রতি তারা নতুন একটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। পরিবারের একমাত্র সন্তান হওয়ায় বাবা-মা অনেকটাই তার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।

অখিলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে তার পরিবার স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) ও বিধানসভা সদস্যের (এমএলএ) সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

শবি জোসেফ আরও জানান, সোমবার সন্ধ্যায় শিপিং কোম্পানির পাঠানো একটি ই-মেইলের মাধ্যমে অখিলের মৃত্যুর খবর পরিবার জানতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করার এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতাগুলো সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। তিনি ১৯ বছর বয়সে মার্চেন্ট নেভিতে যোগ দিয়েছিলেন।’

এলএসইজির তথ্য অনুযায়ী, হামলার শিকার জাহাজটি পরিচালনা করছিল মুম্বাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওশান গ্রেস শিপিং লিমিটেড।

কেরালার মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, অনাবাসী কেরালাবিষয়ক দপ্তর (নোরকা)-কে রাশিয়ার কনস্যুলেট এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে অখিলের মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সেই বিবৃতি প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইউক্রেনে আমাদের মিশন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যাবতীয় সহায়তা দিতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

এতে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয় এবং আহত ভারতীয় নাগরিকের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ‘ভারত এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানায় এবং পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো এবং নিরপরাধ বেসামরিক নাবিকদের জীবন বিপন্ন করা কিংবা মুক্ত নৌচলাচল ও বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ এবং তা অবশ্যই এড়ানো উচিত।’

এদিকে রয়টার্সের বরাত দিয়ে ওডেসা অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান সেরহি লিসাক জানিয়েছেন, এমভি গোল্ডেন লিও জাহাজে হামলার পরদিন সোমবারও ওডেসা বন্দরে আরেকটি রুশ হামলা হয়েছে। ওই হামলায় আরও তিনজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন।