বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানি এখন অ্যাপল
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্যে। এর ফলে এনভিডিয়াকে পেছনে ফেলে আবারও বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানির অবস্থান দখল করেছে অ্যাপল।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদিন লেনদেন চলাকালে অ্যাপলের বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ ট্রিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, শেয়ারদর ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যাওয়ায় এনভিডিয়ার বাজারমূল্য নেমে আসে প্রায় ৪ দশমিক ৮৬ ট্রিলিয়ন ডলারে।
এর আগে ২০২৫ সালের জুন থেকে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানির শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল এনভিডিয়া। তবে ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর এবারই প্রথম সেই অবস্থান পুনরুদ্ধার করল অ্যাপল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিনিয়োগকারীরা এখন শুধু এআই চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের দিকেই নজর দিচ্ছেন না; বরং এআই প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদে আয় বাড়াতে সক্ষম কোম্পানিগুলোকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বিআরআই ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের বিনিয়োগ বিভাগের প্রধান টনি মেডোজ বলেন, ‘এআই দৌড়ে মডেল তৈরিতে কম বিনিয়োগ করায় অ্যাপলকে পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু এখন সেই ধারণা বদলেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অ্যাপলের মূলধনী ব্যয়ের চাপ তুলনামূলক কম। সেবা, নিজস্ব ইকোসিস্টেম এবং নতুন হার্ডওয়্যার আপগ্রেডের মাধ্যমে এআই থেকে আয় করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি ভালো অবস্থানে রয়েছে। বর্তমান মূল্যায়ন ভবিষ্যতের জল্পনাকেন্দ্রিক এআই সম্ভাবনার চেয়ে স্থায়ী আয়ের সক্ষমতার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থাকেই প্রতিফলিত করছে।’
দীর্ঘদিন এআই প্রতিযোগিতায় কিছুটা পিছিয়ে থাকার সমালোচনার মুখে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে অ্যাপল। আগামী সেপ্টেম্বরে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক দায়িত্ব ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কথা রয়েছে অ্যাপলের হার্ডওয়্যার বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জন টার্নাসের।
গত মাসে অ্যাপল দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তাদের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট সিরির বড় ধরনের সংস্করণ উন্মোচন করেছে। উন্নত এই সংস্করণের মাধ্যমে এআই প্রতিযোগিতায় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও নতুন স্টার্টআপগুলোর সঙ্গে ব্যবধান কমানোর আশা করছে কোম্পানিটি।
অনেক বিশ্লেষকের মতে, বিশ্বের কোটি কোটি আইফোনে সংরক্ষিত ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যই অ্যাপলের সবচেয়ে বড় এআই সম্পদ। এসব তথ্য কাজে লাগানো গেলে সিরির উত্তর আরও নির্ভুল ও কার্যকর হতে পারে। তবে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা বজায় রেখেই সেই তথ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন অ্যাপলের বড় চ্যালেঞ্জ।
অন্যদিকে, বিশ্বের প্রথম ৫ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্যের কোম্পানি হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছিল এনভিডিয়া। ২০২৫ সালের অক্টোবরে এই মাইলফলক স্পর্শ করে প্রতিষ্ঠানটি।
আরও পড়ুন : এআইতে বৈশ্বিক জোট গড়ল চীন, কী এই ওয়াইকো?
তবে শীর্ষস্থান হারানো মানেই এনভিডিয়ার প্রভাব কমে গেছে এমনটা মনে করছেন না বিশ্লেষকেরা। কারণ, জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির বড় অংশই এখনো এনভিডিয়ার গ্রাফিক্স প্রসেসরের ওপর নির্ভরশীল। বাজার পরিস্থিতি বদলালে কোম্পানিটি আবারও শীর্ষস্থান ফিরে পেতে পারে।
এদিকে এআই খাতে বিনিয়োগের সুফল এখন শুধু এনভিডিয়াতেই সীমাবদ্ধ নেই। মেমোরি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। চলতি বছরের মে মাসে মাইক্রনের বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। একইভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার এসকে হাইনিক্সও সম্প্রতি নাসডাকে তালিকাভুক্ত হয়ে এআই খাতের নতুন প্রতিযোগী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
তবে জুলাই মাসে এআই-নির্ভর শেয়ারবাজারে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এআই-ভিত্তিক শেয়ারের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা নতুন করে মূল্যায়ন করায় ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর সূচক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ১৯ শতাংশ কমেছে। তবুও চলতি বছরে সূচকটির সামগ্রিক পারফরম্যান্স এখনো এনভিডিয়ার তুলনায় ভালো রয়েছে। তথ্যসূত্র : রয়টার্স।