শিক্ষার্থীদের ভিসায় বড় পরিবর্তন আনল যুক্তরাষ্ট্র, কমল থাকার মেয়াদ
যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তি ও বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদে বড় পরিবর্তন আনছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়মে কয়েক দশক ধরে চলে আসা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থা বাতিল হচ্ছে। এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট শিক্ষাক্রম বা দায়িত্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভিসাধারীরা যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারতেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক বিভাগ (ডিএইচএস) নতুন নিয়ম প্রকাশ করেছে। এতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীদের সাধারণত সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। বিদেশি সাংবাদিকদের একবারে সর্বোচ্চ ২৪০ দিন থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে চীনা নাগরিক সাংবাদিকদের জন্য এই সময়সীমা ৯০ দিন।
নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে হবে। অন্যথায় তাকে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে পুনরায় প্রবেশের জন্য আবেদন করতে হবে। নতুন নিয়ম ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের ৬০ দিন পর কার্যকর হবে। এর আগে মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা হবে। আগামী আগস্ট ও সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রমে এই নিয়মের প্রভাব পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিকারের দাবিতে সোনম ওয়াংচুকের অনশন ১৯ দিনে
ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করছে। নতুন নিয়মটিও সেই উদ্যোগের অংশ।
ডিএইচএস বলেছে, অতীতে বিদেশি শিক্ষার্থী ও অন্যান্য ভিসাধারীদের প্রায় অনির্দিষ্টকাল যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে করদাতাদের ওপর বাড়তি ব্যয় এবং মার্কিন নাগরিকদের জন্য অসুবিধা তৈরি হয়েছে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে ভিসাধারীদের ওপর নজরদারি আরও সহজ হবে বলে দাবি করেছে বিভাগটি।
ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা ২ হাজার ১০০ জনের বেশি ব্যক্তি চলতি বছরের এপ্রিলে এখনো শিক্ষার্থী হিসেবে অবস্থান করছিলেন। তাদের কেউ নতুন কর্মসূচিতে ভর্তি হয়েছেন। কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করেছেন। আবার কেউ কর্মসূচির মেয়াদ বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান অব্যাহত রেখেছেন।
নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন বা একাডেমিক কর্মসূচি বদলের ওপরও বিধিনিষেধ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ বেশি কঠোর হবে।
ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ভিসাধারী প্রবেশ করেছেন। আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ১১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই অর্থবছরে দেশটিতে ৫ লাখের বেশি বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং প্রায় ৩৭ হাজার ৩০০ বিদেশি সাংবাদিক প্রবেশ করেন।
ডিএইচএস বলেছে, বিদেশি শিক্ষার্থী, বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী ও সাংবাদিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তাদের ওপর নজরদারি ও তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন বৈধ ও অবৈধ—দুই ধরনের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণেই কড়াকড়ি বাড়াচ্ছে। গত জুনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজার শিক্ষার্থীর ভিসাও ছিল। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণে অনেক শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়।
অভিবাসন অধিকারকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নতুন নীতির সমালোচনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, নিয়মের জটিলতা ও বাড়তি খরচের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি পড়াশোনা, শিক্ষকতা ও গবেষণার আগ্রহ কমতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের আকর্ষণও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।