১৬ জুলাই ২০২৬, ১৩:১০

প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিকারের দাবিতে সোনম ওয়াংচুকের অনশন ১৯ দিনে

অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক পরীক্ষা করছেন এক চিকিৎসক  © সংগৃহীত

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিকার ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনশন করছেন জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তার অনশন ১৯ দিনে গড়িয়েছে। এ অবস্থায় প্রতিদিন তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট।

বুধবার (১৬ জুলাই) প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। জনস্বার্থে করা একটি মামলার শুনানিতে আদালত এ নির্দেশ দেন।

আদালত কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি সরকারকে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা প্রতিদিন ‘ক্লিনিক্যাল ও অন্যান্যভাবে’ পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। চিকিৎসকেরা প্রয়োজন মনে করলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঠেকাতে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেও বলা হয়েছে।

শুনানিতে আদালত ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে প্রশ্ন করেন, ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না। জবাবে সলিসিটর জেনারেল জানান, ওয়াংচুকের প্রতিদিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।

আদালত বলেন, ওয়াংচুককে নিয়মিত সরকারি চিকিৎসকদের মাধ্যমে পরীক্ষা করা উচিত। চিকিৎসকের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে কর্তৃপক্ষকে হস্তক্ষেপ করতে হবে।

আদালতের আদেশে বলা হয়, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঠেকাতে চিকিৎসকের মতামত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যেকোনো চিকিৎসা দেওয়া হবে বলে সলিসিটর জেনারেল আদালতকে আশ্বস্ত করেছেন।

আদালত আরও বলেন, যেকোনো নাগরিকের জীবন মূল্যবান। তা রক্ষায় সরকারি কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় চেষ্টা করতে হবে। এসব আশ্বাসের পর জনস্বার্থে করা মামলাটি নিষ্পত্তি করে দেন আদালত।

আইনজীবী ও সমাজকর্মী রাকেশ কুমার সাইনি ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে মামলাটি করেন। তিনি আদালতে বলেন, কয়েক দিন ধরে অনশন করায় ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।

এ বিষয়ে ১৪ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বরাত দেন রাকেশ কুমার সাইনি। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘ফাস্টিং স্টুডেন্ট হসপিটালাইজড, ওয়াংচুক লুজেস ৮.২৫ কেজি অ্যাজ স্ট্রাইক কন্টিনিউস’। এতে বলা হয়, অনশন চালিয়ে যাওয়ার মধ্যে ওয়াংচুকের ওজন ৮ দশমিক ২৫ কেজি কমেছে।

এর আগে, গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশন করছেন সোনম ওয়াংচুক। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তিনি এই কর্মসূচি পালন করছেন।

মামলায় বলা হয়, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতির পরও সরকার নিষ্ক্রিয় দর্শকের ভূমিকা পালন করতে পারে না। কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ না করা ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর ১০৮ ধারার আওতায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মতো অপরাধ হতে পারে বলেও আবেদনে দাবি করা হয়।

ওয়াংচুকের জীবন রক্ষায় প্রয়োজনে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধেও দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার আবেদন করা হয়। তাকে সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তাবও দেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান তরল খাবারের মাধ্যমে দেওয়ার কথাও আবেদনে বলা হয়।