প্যারামাউন্টের ওয়ার্নার ব্রোস চুক্তি ঠেকাতে ১১ রাজ্যের মামলা
প্যারামাউন্টের ১১০ বিলিয়ন ডলারের ওয়ার্নার ব্রোস ডিসকভারি অধিগ্রহণ চুক্তি আটকে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াসহ ১১টি রাজ্য মামলা করেছে। রাজ্যগুলোর অভিযোগ, এই একীভূতকরণের ফলে চলচ্চিত্র বিতরণ ও কেবল টেলিভিশন খাতে প্রতিযোগিতা কমে যাবে, যা সিনেমা হল মালিক ও পে-টিভি পরিবেশকদের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
আন্তজার্তিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মামলা প্যারামাউন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডেভিড এলিসনের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি প্যারামাউন্টকে নেটফ্লিক্স ও ডিজনির মতো বড় বিনোদন প্রতিষ্ঠানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোনটা ১৩ জুলাই (সোমবার) যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে, আইকনিক হলিউড সাইনের পাশে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি ঘোষণা করেন যে, প্যারামাউন্টের ১১০ বিলিয়ন ডলারে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া আটকাতে ক্যালিফোর্নিয়া মামলা করবে।
ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোনটা বলেন, ‘এই মামলার মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়া এবং আমাদের সহযোগী রাজ্যগুলো কারসাজিপূর্ণ বাজারের জন্য নয়, বরং মুক্ত ও ন্যায্য বাজারের জন্য লড়ছে। আমেরিকার সরকার বা অর্থনীতিতে কোনো রাজা নেই।’
রাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চুক্তিটি অনুমোদন পেলে প্যারামাউন্ট যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত চলচ্চিত্র বিতরণ বাজারের প্রায় ২৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করবে। একই সঙ্গে ব্লকবাস্টার সিনেমার বিতরণ বাজারের ৩০ শতাংশ এবং বেসিক কেবল চ্যানেলের বাজারের ২৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
এই মামলার নিষ্পত্তি হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্যারামাউন্টকে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হতে পারে। এর আগে প্যারামাউন্ট ও ওয়ার্নার ব্রোস ডিসকভারি একীভূত হওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণার পর থেকেই হলিউডে এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
অভিনেতা, লেখকসহ বিনোদন অঙ্গনের অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই চুক্তির ফলে কর্মসংস্থান কমতে পারে। অন্যদিকে, সিনেমা হল মালিকদেরও উদ্বেগ রয়েছে—দুটি বড় স্টুডিও এক হয়ে গেলে নতুন চলচ্চিত্রের সংখ্যা কমে যেতে পারে।
আরও পড়ুন : কেন জমে গিয়েছিল উত্তর মেরুর আগে দক্ষিণ মেরু, মিলেছে রহস্যের ব্যাখ্যা
তবে প্যারামাউন্ট জানিয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাণ কমবে না, বরং আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অপ্রয়োজনীয় অবকাঠামো, বিপণন ও করপোরেট খাতে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের ব্যয় কমানোর পরও তারা বছরে ৩০টি চলচ্চিত্র মুক্তির লক্ষ্য রাখছে। চুক্তিটি এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অনুমোদন পেয়েছে। বিভাগটি জানিয়েছে, এই অধিগ্রহণ প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে বড় কোনো সমস্যা তৈরি করবে না।
প্যারামাউন্টের সিইও ডেভিড এলিসনের বাবা ওরাকলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তাদেরও তার কোম্পানিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চুক্তিটি আগামী অক্টোবরের আগে সম্পন্ন না হলে প্যারামাউন্টকে ওয়ার্নার ব্রস ডিসকভারির শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি ত্রৈমাসিকে প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন ডলার ফি দিতে হতে পারে।
প্যারামাউন্ট জানিয়েছে, দীর্ঘ বিলম্ব হলে চুক্তির অর্থায়ন পুনরায় আলোচনা করতে হতে পারে, শেয়ারের দামে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে কিংবা শেষ পর্যন্ত পুরো লেনদেন বাতিলও হয়ে যেতে পারে। তথ্যসূত্র : রয়টার্স।