১১ জুলাই ২০২৬, ১৫:৪০

হরমুজে ইরানকে টোল দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন  

প্রতীকী ছবি   © সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্য সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর নৌ-চলাচল ফি বা টোল আরোপের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। তবে এই ফি কোনোভাবেই বাধ্যতামূলক হতে পারবে না এবং এতে জাতিসংঘ নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)-র সমর্থন থাকতে হবে। খবর গার্ডিয়ানের

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের আবহেই এই নতুন কূটনৈতিক তৎপরতার খবর সামনে এলো। হরমুজ প্রণালির অধিকাংশ নৌ-সীমা নিয়ন্ত্রণ করে ওমান। ওমান সরকার ইতোমধ্যে ব্রিটিশ আইনজীবীদের সহায়তায় একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে, যা মূলত ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযোগকারী ‘মালাক্কা প্রণালির সফল কো-অপারেটিভ মেকানিজমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

লন্ডনে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (IMO) কাউন্সিলে ওমানের প্রতিনিধি খামিস বিন মোহাম্মদ আল শামাকি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেকোনো দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধে যাতায়াত করার অধিকার রয়েছে এবং এর ওপর কোনো জোরপূর্বক ট্রানজিট ফি আরোপ করা যাবে না।’

তবে তিনি জানান, সামুদ্রিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, পরিবেশ রক্ষা এবং অগ্নিকাণ্ড বা সংঘর্ষের মতো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য জাহাজগুলোর কাছ থেকে স্বেচ্ছামূলক সেবামূলক ফি নেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ওমান। এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য ওমানের আইনি বিশেষজ্ঞরা তেহরান সফরে যাচ্ছেন এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও শনিবার ওমান সফরে আসছেন।

এই প্রস্তাবের বিষয়ে ব্রিটেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে বাধ্যতামূলক টোল আরোপ করা হলে তা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য ‘বিপর্যয়কর’ হবে। তবে ক্যাবিনেটের কয়েকজন সদস্য মনে করেন, সুনির্দিষ্ট নৌ-সেবার জন্য ফি আদায়ের নিয়ম ইংলিশ চ্যানেল বা মালাক্কা প্রণালীর মতো অনেক আন্তর্জাতিক জলপথেই প্রচলিত রয়েছে।

এদিকে, মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে দায়ী করে অভিযোগ করেছেন যে তেহরান চুক্তির শর্ত মানছে না। ওয়াশিংটন দাবি করেছে, ইরানকে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিতে হবে যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত এবং সেখানে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে আর আক্রমণ করা হবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন ‘কার্যত শেষ’। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য আলোচনা চলবে। এর পরপরই ইরানকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি ইরান আমাকে হত্যার কোনো চেষ্টা করে, তবে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের দিকে ১০০০ মিসাইল তাক করে রাখা আছে।’

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে প্রায় ১৫০টি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, যার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর ইরানি সক্ষমতা ধ্বংস করা। জবাবে ইরানও কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। কাতার ও অন্যান্য আঞ্চলিক দেশগুলোও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, ইরানকে এই প্রণালীর একক সার্বভৌমত্ব দেওয়া হলে তা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের লঙ্ঘন হবে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য তেহরানের কাছে জিম্মি হয়ে পড়বে।