০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৫১

মধ্য চীনে টর্নেডো ও ঝড়ে ১৭ জনের মৃত্যু, ধেয়ে আসছে টাইফুন বাভি

চীনের ইয়ংজিয়াং নদী  © সংগৃহীত

মধ্য চীনে শক্তিশালী টর্নেডো ও ঝড়ের আঘাতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ এবং হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে দেশটির পূর্ব উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন বাভি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আল জাজিরা। চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশে বজ্রঝড় ও তীব্র বাতাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১১ জন নিহত হয়েছেন এবং ৩০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এ ছাড়া একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

প্রবল ঝড়ে হুবেইয়ের হুয়াংগ্যাং শহরে একটি অস্বাভাবিক টর্নেডো আঘাত হানে। এতে একটি লজিস্টিক কোম্পানি ও একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ের তীব্রতায় একাধিক ট্রাক প্রায় ৩০ মিটার (৯৮ ফুট) পর্যন্ত উড়ে যায় বলে জানিয়েছে সিনহুয়া।

ঝড়ে প্রায় ৫ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ২২টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। উদ্ধারকাজে লাইফ ভেস্ট পরা কর্মীদের রাবার বোটে করে নিখোঁজদের খুঁজতে দেখা গেছে। অনেক এলাকায় ভবনের জায়গায় ধ্বংসস্তূপ পড়ে রয়েছে।

ঝড়ের ভয়াবহতা তুলে ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ওয়াং নামে এক ব্যক্তি জানান, প্রচণ্ড বাতাস তার শ্যালক ঝাংকে ঘর থেকে ‘টেনে বের করে’ নিয়ে যায়। পরে তাকে অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, ‘দেয়াল আলমারি, সোফা, কফি টেবিল, ডাইনিং টেবিল ও চেয়ার এক মুহূর্তে উধাও হয়ে গেল। যেন পুরো ভবনটির ভেতরটা ফাঁপা করে দেওয়া হয়েছিল।’

এদিকে দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংজি প্রদেশেও ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টাইফুন মেসাকের প্রভাবে সৃষ্ট প্রবল বৃষ্টিতে সেখানে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। গুয়াংজি প্রদেশে অন্তত ৪০টি নদী ও জলপথ উপচে পড়েছে। বন্যার কারণে দেশটিতে সর্বোচ্চ পর্যায়ের রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। 

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উদ্ধার ও জরুরি ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

উপকূলে আঘাত হানতে পারে টাইফুন বাভি
প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেই চীন এখন সুপার টাইফুন বাভির মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে আঘাত হানার পর ঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেলে টাইফুন বাভির বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ মাইল (২৪১ কিলোমিটার)। রাতভর এর শক্তি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার নাগাদ টাইফুন বাভি চীনের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এর প্রভাবে পূর্ব চীনে প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে টাইফুন বাভির আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রোটা দ্বীপ। সেখানে ঘণ্টায় ১৮০ মাইল (২৯০ কিলোমিটার) বেগে বাতাসে গাছ ও বিদ্যুতের লাইন উপড়ে যায় এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

রোটা দ্বীপের মেয়র অব্রি হোকগ এএফপিকে জানিয়েছেন, দ্বীপটির ৫০ শতাংশের বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তিনি আরও জানান, তাকে জানানো হয়েছে দুজন সামান্য আহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়নি।