স্কুলের পাঠ্যক্রমে বাইবেল অর্ন্তভুক্ত করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্য
সরকারি স্কুলগুলোতে ধর্মীয় অনুশাসন ও রক্ষণশীল আদর্শের প্রভাব বাড়াতে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্য। আগামী ২০৩০ সাল থেকে রাজ্যের সব পাবলিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য বাইবেলের অংশবিশেষ অন্তর্ভুক্ত করে একটি বাধ্যতামূলক পাঠ্য তালিকা অনুমোদন করেছে টেক্সাসের শিক্ষা বোর্ড। খবর রয়টার্সের
গত শুক্রবার (২৬ জুন) রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা টেক্সাস বোর্ড অব এডুকেশনে ৯-৫ ভোটে এই বিতর্কিত প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়। অধিবেশনের সময় একজন বোর্ড সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে টেক্সাসের প্রায় ৫০ লাখেরও বেশি সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীকে নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে এই ধর্মীয় পাঠ্যসূচি পড়তে হবে।
উল্লেখ্য, এর আগেই টেক্সাসের সমস্ত সরকারি স্কুলে বাইবেলের ‘দশটি নির্দেশিকা’ বা টেন কমান্ডমেন্টস প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক করেছিল রাজ্য প্রশাসন। চলতি বছরের শুরুর দিকে একটি ফেডারেল আপিল আদালতও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কয়েকটি রিপাবলিকান-শাসিত রাজ্যের মতো টেক্সাসও দীর্ঘদিন ধরে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় খ্রিস্টীয় শিক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
তবে প্রশাসনের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। সমালোচকদের মতে, সরকারি স্কুলে ধর্মীয় পাঠ্য তালিকা বাধ্যতামূলক করা মার্কিন সংবিধানের ‘এস্টাবলিশমেন্ট ক্লজ’-এর সরাসরি লঙ্ঘন, যা স্পষ্টভাবেই রাষ্ট্র ও চার্চের (ধর্ম) পৃথকীকরণ নিশ্চিত করে। অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তের সমর্থকদের দাবি, এর মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোতে মৌলিক জুডিও-খ্রিস্টান শিক্ষার পুনরুদ্ধার ঘটবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বোর্ডের অনুমোদিত এই বাধ্যতামূলক পাঠ্য তালিকায় বাইবেলের পাশাপাশি বেশ কিছু শাস্ত্রীয় এবং ধ্রুপদী সাহিত্যও স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঈশপের গল্প, আমেরিকার আদিবাসীদের (রেড ইন্ডিয়ান) লোকগাথা এবং বিশ্বখ্যাত উপন্যাস ‘ডন কিহোতে’-র শিশুতোষ সংস্করণ। তবে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, টেক্সাসের সিংহভাগ শিক্ষার্থী লাতিনো এবং কৃষ্ণাঙ্গ হওয়া সত্ত্বেও এই পাঠ্য তালিকার বেশিরভাগ লেখকই শ্বেতাঙ্গ পুরুষ।
চার্চ ও রাষ্ট্রের পৃথকীকরণের পক্ষে সোচ্চার থাকা বিখ্যাত মার্কিন অধিকার সংগঠন ‘আমেরিকানস ইউনাইটেড ফর সেপারেশন অব চার্চ অ্যান্ড স্টেট’-এর প্রধান র্যাচেল লেজার এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘টেক্সাস শিক্ষা বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত মূলত একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় বিশ্বাসকে চাপিয়ে দেওয়ার এবং আমেরিকার নতুন প্রজন্মকে ‘যুক্তরাষ্ট্র একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র’—এমন একটি মিথ্যা ধারণায় দীক্ষিত করার অপচেষ্টা মাত্র। এর মাধ্যমে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চরম অপব্যবহার করা হচ্ছে।’