ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলাকে ৩৪ লাখ ডলার মানবিক সহায়তা দিচ্ছে কানাডা
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গত মানুষের জরুরি পাশে দাঁড়িয়েছে কানাডা। উদ্ধার অভিযান ও মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার (কানাডিয়ান ডলারের সমতুল্য) জরুরি মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেখেন, ‘ভেনেজুয়েলার এই বিধ্বংসী ভূমিকম্পে যে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানি হয়েছে, তা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও বেদনাদায়ক। এই কঠিন সময়ে কানাডা ভেনেজুয়েলার পাশে আছে।’
অনিতা আনন্দ আরও উল্লেখ করেন, কানাডা সরকারের বরাদ্দকৃত এই অর্থ সরাসরি বিশ্বস্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মানবিক অংশীদার সংস্থার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এই তহবিলের মাধ্যমে ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি হারানো ও চিকিৎসাধীন দুর্গত মানুষের কাছে জরুরি খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ খাবার পানি, প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, অস্থায়ী সুরক্ষা এবং অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী অতিপ্রয়োজনীয় উপাদান দ্রুত পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৪ জুন) রাতে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে যথাক্রমে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রলয়ঙ্কারী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, প্রথম ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল দেশটির কারাবোবো অঙ্গরাজ্যে, যা রাজধানী কারাকাস থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, প্রথম কম্পনের ঠিক ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানলে চারদিকের বহুতল ভবনগুলো তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ে। এরপর থেকে দেশটিতে ২০টিরও বেশি আফটারশক বা পরবর্তী মৃদু ও মাঝারি কম্পন অনুভূত হয়েছে, যা উদ্ধারকাজকে ব্যাহত করছে।
ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে এখন পর্যন্ত ২৩৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত হয়েছেন হাজারেরও বেশি মানুষ। স্থানীয় প্রশাসনের আশঙ্কা, ধসে পড়া হাজার হাজার আবাসিক ভবনের নিচে এখনো বিপুল সংখ্যক মানুষ আটকা পড়ে আছেন। এদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এক সতর্কবার্তায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, ধ্বংসস্তূপের বিশাল আকার এবং নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বিবেচনায় এই দুর্যোগে চূড়ান্ত নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।