২৫ জুন ২০২৬, ১৮:৫১

কাশ্মিরে থানায় ঢুকে পুলিশকে পেটাল সেনাসদস্যরা, ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ভারতীয় সেনাবাহিনী  © সংগৃহীত

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরের কিস্তওয়ার জেলায় একটি থানায় ঢুকে পুলিশ সদস্যদের মারধর ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৪০ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন কর্নেল, একজন মেজর ও একজন নায়েব সুবেদার রয়েছেন।

পুলিশের দায়ের করা এফআইআরে ১৭ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল এন অরুণ গান্ধী, মেজর বিকাশ শর্মা এবং নায়েব সুবেদার শঙ্কর ঘুর্খেসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০ সেনাসদস্যকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা এবং সরকারি সম্পত্তি বিনষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশের অভিযোগ, সেনাসদস্যরা লাঠি, লোহার রড ও অস্ত্র নিয়ে থানায় প্রবেশ করে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মারধর করেন। হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন উপ-পুলিশ সুপার (এসডিপিও) বিজয় কুমার ভগত ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) অমৃত কাটোচ।

এফআইআর অনুযায়ী, ঘটনার সময় এসএইচও অমৃত কাটোচ একটি সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাইরে ছিলেন। হামলার খবর পেয়ে থানায় ফিরে এলে তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পুলিশ দাবি করেছে, মেজর বিকাশ শর্মার নেতৃত্বে সেনাসদস্যরা তার ইউনিফর্ম ছিঁড়ে ফেলেন এবং এসডিপিওকেও মারধর করেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি জব্দ করাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত। ওই সময় সহকারী আঞ্চলিক পরিবহন কর্মকর্তা (এআরটিও) থানার ভেতরে অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেনাসদস্যরা থানার দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে তাকে ও তার নিরাপত্তারক্ষীদের মারধর করেন এবং তার গাড়িও ভাঙচুর করেন।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, হামলাকারীরা থানার মূল ফটক ভেঙে ফেলে এবং সরকারি যানবাহন ও অন্যান্য সম্পত্তিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। এফআইআরে ঘটনাটিকে ‘পূর্বপরিকল্পিত হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের গুরুতর ক্ষতি বা হত্যা করার উদ্দেশ্যেই সেনাসদস্যরা থানায় প্রবেশ করেছিলেন।

এদিকে ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে তারা পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করবে।