২৫ জুন ২০২৬, ১৭:৪৫

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের আগে মোবাইলে সতর্কবার্তা গুগলের, ফোন কি পারে আপনার জীবন বাঁচাতে?

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প  © সংগৃহীত

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে এখন পর্যন্ত ১৬৪ জন নিহত এবং সহস্রাধিক মানুষ আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) আশঙ্কা, এই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা এক লাখ ছুঁতে পারে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমি কাঁপতে শুরু করার ঠিক আগমুহূর্তে ভেনেজুয়েলার লাখো মানুষ তাদের অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গুগলের একটি সতর্কবার্তা পান। গুগলের অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্টস সিস্টেম ভূমিকম্পের প্রাথমিক ভূকম্পন শনাক্ত করে এবং ধ্বংসাত্মক কম্পন পৌঁছানোর আগেই আশপাশের ব্যবহারকারীদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠায়। এই প্রযুক্তি বিশ্বের কোটি কোটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের ওপর নির্ভর করে, যেগুলোতে থাকা মোশন সেন্সর ক্ষুদ্রতম ভূমি-কম্পনও শনাক্ত করতে সক্ষম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুগল ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয়নি। বরং এটি ভূমিকম্পের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করে শক্তিশালী কম্পন পৌঁছানোর আগেই মানুষকে দ্রুত সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে।

এইচআর অ্যানেক্সির বিওটিএস.এআই-এর পরিচালক নিখার আরোরা বলেন, ভেনেজুয়েলার এই ঘটনা প্রমাণ করে যে ভূমিকম্পের আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা কতটা উন্নত হয়েছে। তার ভাষায়, ‘গুগল কিন্তু ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয়নি। বরং ভূমিকম্পের একেবারে প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করে তীব্র কম্পন শুরু হওয়ার আগেই সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে।’

আরোরা জানান, অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলো একটি বিশাল বিস্তৃত সেন্সর নেটওয়ার্কের মতো কাজ করে। ফোনে থাকা অ্যাক্সেলেরোমিটার ভূমিকম্পের প্রাথমিক কম্পন তরঙ্গ বা ‘পি-ওয়েভ’ শনাক্ত করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘অসংখ্য ডিভাইসে একই ধরনের সংকেত শনাক্ত করার মাধ্যমে গুগলের অ্যালগরিদম ভূমিকম্পের অবস্থান ও মাত্রা নির্ধারণ করে। পরে আশপাশের সব মানুষকে সতর্কবার্তা পাঠায়।’

এর ফলে কয়েক সেকেন্ড সময় পাওয়া যায়। জরুরি পরিস্থিতিতে এই কয়েক সেকেন্ডই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা থেকে দূরে সরে যেতে, বিপজ্জনক কার্যক্রম থামাতে বা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার এই অভিজ্ঞতার গুরুত্ব কেবল ভূমিকম্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এনভায়রোকেয়ার ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হৃষিত প্যানথ্রি বলেন, এই ঘটনা দেখিয়েছে কীভাবে প্রযুক্তি দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার এবং সমাজের সহনশীলতা বৃদ্ধি করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব না হলেও প্রযুক্তির সাহায্যে তাৎক্ষণিকভাবে ভূমিকম্প শনাক্ত করা যায়। দ্রুততম সময়ে মানুষের কাছে কম্পনের তথ্য পৌঁছে দিয়ে আহত ও নিহতের সংখ্যা কমানো সম্ভব।’