২৫ জুন ২০২৬, ১৪:৫৫

মন্ত্রী পদমর্যাদায় নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার

দীনেশ ত্রিবেদী  © সংগৃহীত

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার (ক্যাবিনেট) মন্ত্রীর সমমর্যাদা দিয়েছে ভারত সরকার। এই সিদ্ধান্তের ফলে তিনি রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে উচ্চতর প্রটোকল সুবিধা পাবেন। তবে এ মর্যাদা শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক ও প্রটোকল-সংক্রান্ত কার্যক্রমের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছে ভারত সরকার।

বুধবার (২৪ জুন) ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জারি করা এক অফিস স্মারকে এ তথ্য জানানো হয়। ভারত সরকারের আন্ডার সেক্রেটারি কমলেশ রবিদাস স্বাক্ষরিত ওই স্মারকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে ব্যক্তিগত বিবেচনায় টেবিল অব প্রিসিডেন্সে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার মন্ত্রীর সমমর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

স্মারকে আরও উল্লেখ করা হয়, এ কারণে ভারতের বিদ্যমান টেবিল অব প্রিসিডেন্স বা রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ক্রমতালিকায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। এই মর্যাদা কেবল আনুষ্ঠানিক ও প্রটোকল-সংশ্লিষ্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং এর ফলে প্রটোকল তালিকায় কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আসছে না।

টেবিল অব প্রিসিডেন্স হলো ভারতের সরকারি প্রটোকল তালিকা, যেখানে রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পদধারী ব্যক্তি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অগ্রাধিকারক্রম নির্ধারণ করা হয়।

ব্যারাকপুরের সাবেক এমপি ও বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদী দুইবার ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য গত ১২ জুন তিনি বাংলাদেশে পৌঁছান। বৃহস্পতিবার তিনি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন–এর কাছে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে তার পরিচয়পত্র পেশ করবেন।

চব্বিশের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা কমানোর লক্ষ্যেই অভিজ্ঞ এই রাজনীতিককে বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাংলা ভাষায় দক্ষ দীনেশ ত্রিবেদী দুই বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কেও সম্যক ধারণা রাখেন। একজন সেতারবাদক হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে।

আরও পড়ুন: চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় চালু করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

গুজরাটি দম্পতি হীরালাল ত্রিবেদী ও উর্মিলাবেন ত্রিবেদীর ছোট ছেলে দীনেশ ত্রিবেদী হিমাচল প্রদেশের একটি বোর্ডিং স্কুলে পড়াশোনা শেষে কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে কমার্সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। আশির দশকে কংগ্রেসের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও ১৯৯০ সালে জনতা দলে যোগ দেন। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভায় জনতা দলের সদস্য ছিলেন। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে দীনেশ ত্রিবেদী সেই দলে যোগ দেন এবং দলটির প্রথম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন।

২০০৯ সালে ব্যারাকপুর আসন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং–এর সরকারে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে সেই দায়িত্বও পান দীনেশ ত্রিবেদী। তবে পরবর্তীতে তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ব্যারাকপুর থেকে আবারও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হলেও বিজেপির অর্জুন সিংয়ের কাছে পরাজিত হন তিনি। এরপর তৃণমূল কংগ্রেস তাকে পুনরায় রাজ্যসভায় পাঠায়।

পরবর্তীতে দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলে ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। একই বছরের ৬ মার্চ তিনি বিজেপিতে যোগ দেন।