ক্ষতিগ্রস্ত ভেনেজুয়েলাকে সাহায্য করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘সাহায্য করতে প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম’।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সের (টুইটার) পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, এইমাত্র ভেনিজুয়েলার জনগণের উপর আঘাত হানা দুটি ভয়াবহ ভূমিকম্পই ব্যাপক মাত্রার এবং এতে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম! আমি আমাদের সরকারের সকল সংস্থাকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে নির্দেশ দিয়েছি। আমরা আমাদের এই নতুন ও মহান বন্ধুদের পাশে থাকব। প্রাথমিক খবর ভালো নয়!
জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী কর্তৃক সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর ট্রাম্প প্রশাসন ভেনিজুয়েলা সরকারের সাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
ভেনিজুয়েলার উত্তর উপকূলের কাছে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার ফলে রাজধানী কারাকাসে বেশ কিছু ভবন ধসে পড়ে। ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। যদিও প্রাথমিকভাবে কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এর মাত্রা ৭ দশমিক ১ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
পরপর দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইউএসজিএস বলছে, এই দুর্যোগের প্রভাব বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং শক্তিশালী পরাঘাতও অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ১০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ এবং এক লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ৩০ শতাংশ। ইউএসজিএসের মতে, এ ঘটনায় ব্যাপক হতাহত ও বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে।
চাকাও পৌরসভার মেয়র গুস্তাভো দুকে সায়েজ জানিয়েছেন, কারাকাস মহানগর এলাকার অংশ হিসেবে তার পৌরসভায় অন্তত দুটি ভবন সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণকে ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো। তিনি বলেন, ভূমিকম্প-পরবর্তী দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বেশ কয়েকটি ভবনের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কিছু স্থাপনা ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা গ্যাস থেকে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটুক, তা চাই না।’
অন্যদিকে, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি দেলসি রদ্রিগেজ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, জরুরি পরিস্থিতির কারণে ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া ‘গুরুতর ক্ষতির’ কারণে সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ায় বিমানবন্দরটির কার্যক্রমও আপাতত বন্ধ থাকবে।
দেলসি রদ্রিগেজ আরও জানান, উদ্ধার ও জরুরি প্রতিক্রিয়া কার্যক্রম তদারকির জন্য একজন সেনাপতিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর জন্য সব ধরনের শ্রেণিকক্ষের পাঠদানও স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। তবুও ইউএসজিএসের সতর্কতা এবং বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দেশটিতে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে। তথ্যসূত্র: সিএনএন