পদত্যাগ করলেন কিয়ার স্টারমার
তীব্র রাজনৈতিক নাটকীয়তা আর লেবার পার্টির ভেতরে ক্রমাগত বাড়তে থাকা চাপের মুখে অবশেষে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সোমবার (২২ জুন) ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দাঁড়িয়ে এক আবেগঘন ও সংক্ষিপ্ত ভাষণে তিনি লেবার পার্টির শীর্ষ পদ এবং দেশের প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
ভাষণে কিয়ার স্টারমার বলেন, তার দল লেবার পার্টি এই মুহূর্তে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি তুলছিল তা হলো—আগামী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি নিজেই সবচেয়ে যোগ্য ও সঠিক ব্যক্তি কি না।
তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমি এই প্রশ্নের জবাবে আমার দলের দেওয়া উত্তরটি শুনতে পেয়েছি এবং অত্যন্ত সশ্রদ্ধ চিত্তে ও সানন্দে সেই উত্তর আমি মাথা পেতে নিচ্ছি।’
নিজের রাজনৈতিক জীবনের সিদ্ধান্তগুলোর কথা উল্লেখ করে বিদায়ী এই প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, এ পর্যন্ত তিনি যত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার প্রতিটিই ছিল দেশের স্বার্থকে সবার আগে রেখে। স্টারমার বলেন, ‘আমি এ যাবৎকাল যে সিদ্ধান্তই নিয়েছি, তা কেবলই আমার ভালোবাসার এই দেশটিকে সবার আগে রাখার উদ্দেশ্যে।’
ভাষণের শেষ অংশে তিনি নিজের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলেন, ‘আমি লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে পদত্যাগ করছি। পদত্যাগের আগে আমার পরে যিনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসবেন তার জন্য একটি শক্তিশালী ও উন্নত বিট্রেন আমি রেখে যাচ্ছি, দু’বছর আগে যেটি আমি পেয়েছিলাম প্রায় ভগ্ন অবস্থায়।’
গতকালই সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে কিয়ার স্টারমার বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুধাবন করে দেশের স্বার্থে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত আছেন। মেকারফিল্ডের উপ-নির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নাটকীয় বিজয়ের পর লেবার পার্টির ভেতরে যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছিল, স্টারমারের এই পদত্যাগের ঘোষণার মাধ্যমে তা চূড়ান্ত রূপ পেল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, কিয়ার স্টারমারের এই বিদায়ের ফলে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের ডাউনিং স্ট্রিটে বসার পথ এখন অনেকটাই সুগম হলো।