পদত্যাগের চাপে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন স্টারমার
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। দলীয় এমপি ও মন্ত্রিসভার একাংশের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব ছাড়ার সময়সূচি ঘোষণার দাবি জোরালো হওয়ার পর নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন তিনি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্টারমারের নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে মনে করেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহামের জয়ের পর লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা নতুন গতি পেয়েছে। দলটির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী স্টারমারকে সরে যাওয়ার একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
লেবার সরকারের বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী পিটার কাইল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করছেন। স্টারমার দেশের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।’
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, অভিবাসন ও জ্বালানি নীতিতে স্টারমার ব্যর্থ হয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি উত্তর সাগরের তেলক্ষেত্রগুলো আরও বেশি ব্যবহারের আহ্বান জানান। ট্রাম্প আরও বলেন, স্টারমার প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে তিনি মনে করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি স্টারমারের মঙ্গল কামনাও করেন।
তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের পর ট্রাম্প ও স্টারমারের মধ্যে আর কোনো আলোচনা হয়নি।
আরও পড়ুন : ইলিশের উৎপাদন ও গড় ওজন কমছে কেন, উদ্বেগে গবেষকরা
উপনির্বাচনে জয়ের পর অ্যান্ডি বার্নহাম এখন লেবার পার্টির সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন। দলটির কয়েকজন এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারের পরিবর্তে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। শিক্ষা নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান ও লেবার এমপি হেলেন হেইস বলেন, মেকারফিল্ডে বার্নহামের জয় ছিল অসাধারণ এবং নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে তিনি ভালো করবেন বলে তার বিশ্বাস।
তবে সবাই নেতৃত্ব পরিবর্তনের পক্ষে নন। সাবেক ছায়ামন্ত্রী টবি পারকিন্স বলেন, স্টারমারকে এখনই সরিয়ে দেওয়া হলে গত এক দশকে যুক্তরাজ্য সপ্তম প্রধানমন্ত্রীর মুখ দেখবে। তার মতে, সরকারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য রয়েছে এবং স্টারমার আরও কিছু সময় পাওয়ার যোগ্য।
এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোতে জোরালোভাবে আলোচনা চলছে যে, স্টারমার শিগগিরই নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ঘোষণা দিতে পারেন। যদিও এখন পর্যন্ত তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের কোনো ইঙ্গিত দেননি। তথ্যসূত্র: বিবিসি।