১৭ জুন ২০২৬, ২০:৫৩

ভোটে হারার পর বেঁকে বসলেন বাড়ির মালিক, ছাড়তে হচ্ছে তৃণমূলের কার্যালয়

কলকাতার মেট্রোপলিটনে অবস্থিত তৃণমূলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়  © সংগৃহীত

কলকাতার মেট্রোপলিটনে অবস্থিত অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয় (তৃণমূল ভবন) খালি করতে শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর ক্যানাল রোডের এই বহুতল ভবন থেকে মঙ্গলবার (১৬ জুন) মালপত্র সরাতে দেখা যায় তাদের। 

জানা গেছে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং বাড়ির মালিকের চাপের মুখে ভবনটি ছাড়ছে দলটি। তবে দলের পক্ষ থেকে ব্যাপারটি অস্বীকার করা হয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবন থেকে চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র সরিয়ে নিচে নামিয়ে ফেলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই কার্যালয়টি অন্যত্র স্থানান্তর হতে পারে। 

শুধু তাই নয়, সেই ভবনটির বাইরে থাকা সবুজ রংটি মুছে সাদা রং করা হচ্ছে। রাজমিস্ত্রিরা বলছেন, আপাতত সাদা প্রাইমার লাগিয়ে দিতে বলা হয়েছে। পরে কী রং হবে, তা এখনও তাদের বলা হয়নি।

তথ্য অনুযায়ী, মমতার দলের পুরোনো পার্টি অফিস তপসিয়ায়। সেখানে চলমান সংস্কারকাজ এখনও বাকি। যার ফলে কার্যালয়টি পরিবর্তনের পর দলের কাজ কোথা থেকে চলবে সেই বিষয়ে এখনও কেউ নিশ্চিত নয়। মনে করা হচ্ছে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকেই দলের কাজ চালানো হবে।

এর আগে, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পর থেকেই উত্তর পঞ্চান্নগ্রামে বাইপাসের ধারে পুরোনো তৃণমূল ভবন ভেঙে ফেলে নতুন করে নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। সেই সময় থেকেই কলকাতার মেট্রোপলিটনের একটি পাঁচতলা বাড়ি অস্থায়ী তৃণমূল ভবন হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়। সবই ঠিক ছিল। কিন্তু ভোটে হারার পরেই ওই বাড়ির মালিক মন্টু সাহা বেঁকে বসেন।  

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এককালের আস্থাভাজন মনোতোষ সাহা অর্থাৎ মন্টু সাহা মে মাসেই খালি করতে বলেছিলেন ভবনটি। তিনি দাবি করেন, বারবার বলার পরেও ওই ভবন খালি করছে না তৃণমূল। এমনকি এই অভিযোগ নিয়ে প্রগতি ময়দান থানার দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। এ বিষয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকেও থানায় গিয়েছিলেন কুণাল এবং রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

এদিকে কার্যালয় সরে যাওয়ার জল্পনা খারিজ করে দিলেন তৃণমূল ভবনের ইনচার্জ সুবীর মজুমদার। তার দাবি, ‘আমরা নিচতলা থেকে তিনতলা পর্যন্ত ব্যবহার করি। চারতলা ও পাঁচতলা মালিকের দখলে রয়েছে। সেই চারতলা ও পাঁচতলা থেকেই জিনিসপত্র সরানো হয়েছে।’  

২০২৫ সালে চুক্তি শেষের জল্পনা খারিজ করে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে মালিকের ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তি আছে। আমরা এখানেই আছি। তৃণমূল ভবন এখানেই আছে। আপনারা ভুল তথ্য পেয়েছেন। উপরের দুটি তলার মালিক তার কাজের জন্য ব্যবহার করছেন। আমাদের তিনটি তলা এখনও আছে। ওরা মেরামত করতে চাইছে। বাড়ির কী রং হবে, সেটা মালিক ঠিক করছেন। তবে ভবন আমাদের আছে। 

সূত্রের খবর, এই দুটি তলা তৃণমূলকে ভাড়া দেননি ‘মডার্ন ডেকরেটরস’-এর মালিক মন্টু সাহা। দেওয়া হয়েছিল প্রথম তিনটি তলা। কিন্তু তার সঙ্গে উপরের দুটি তলাতেও দলীয় কাজ চলত। এদিন মন্টু সাহা তার ছেলে ও পুত্রবধূর সঙ্গে ‘তৃণমূল ভবন’-এ গিয়েছিলেন। সেখানেই একাধিক নেতার সঙ্গে কথা হয়। তারপর চার ও পাঁচতলায় গিয়ে মন্টু সাহার ছেলে অমিত ও তার স্ত্রী দাঁড়িয়ে থেকে ঘর খালি করার প্রক্রিয়ার তদারকি করেন। সরিয়ে নেওয়া হয় ব্যানার, পোস্টার ও চেয়ার। 
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নিচের তলাগুলিও খালি করে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে তৃণমূলের তরফে, এমনটাই দাবি পরিবারের।