১৫ জুন ২০২৬, ০৮:০০

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তিতে থাকছে যে ১৪ বিষয়

ট্রাম্প- মোজতবা খামেনি   © সংগৃহীত

যুদ্ধ বন্ধে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতায় যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সামরিক উপস্থিতি কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম চুক্তির ১৪টি মূল বিষয় প্রকাশ করলেও সেগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি ওয়াশিংটন বা তেহরান।

সোমবার (১৫ জুন) ভোররাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হওয়ার ঘোষণা দেন। এর কিছুক্ষণ পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা জানান।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির মূল বিষয়গুলো হলো—

১. লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি।

২.ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্রের।
৩.৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে থাকা মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।
৪.ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার।
৫.ইরানের ব্যবস্থাপনায় ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া।
৬.যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সহায়তায় ইরানের পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
৭.পুনর্গঠন কার্যক্রমে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়।
৮.ইরানের তেল ও জ্বালানি পণ্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
৯.পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করবে ইরান।
১০.মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি না করার প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্রের।
১১.ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করা।
১২.নিষেধাজ্ঞার আওতায় জব্দ করা ইরানের তহবিলের একটি অংশ মুক্ত করা।
১৩.তেল নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত সমঝোতা আলোচনা শুরু করা।
১৪.চূড়ান্ত চুক্তি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদন করা।

মেহর নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জব্দ করা ইরানি তহবিলের অর্ধেক মুক্ত না করা, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা এবং নৌ অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতার আলোচনা শুরু হবে না।

চুক্তির বিষয়ে ট্রুথ সোশ্যালে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণভাবে টোলমুক্তভাবে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার অনুমতি দিচ্ছি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধও অবিলম্বে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি।’

বিশ্বের জাহাজগুলোকে ইঞ্জিন চালু করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তেল পরিবহন আবার স্বাভাবিকভাবে চলবে।

পরে আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘এই মহান চুক্তি ওই পুরো অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আসবে।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘অনেক প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন এবং আমার আগে সবাই ব্যর্থ হয়েছেন। ওই অঞ্চলের নেতারা এই প্রথম একজন প্রেসিডেন্ট পেয়েছেন, যিনি প্রকৃত শান্তি অর্জনে তাদের সহায়তা করতে পারেন।’

ট্রাম্পের দাবি, শুক্রবার চুক্তি স্বাক্ষর এবং হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের পর অঞ্চলটির পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহন পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

এদিকে ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ইতোমধ্যে সমালোচনার চোখে দেখতে শুরু করেছে ইসরায়েলের ডানপন্থী মহল। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকটি ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম চুক্তিটিকে ইসরায়েলের জন্য রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরাজয় হিসেবে দেখছে।

তাদের মতে, এই সমঝোতার ফলে ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান সীমিত করতে বা বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানে এই চুক্তিকে বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করা হবে, যা ইসরায়েলের কট্টরপন্থীদের কাছে একটি ‘কৌশলগত পরাজয়’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।