মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল
ওয়াশিংটন ও তেহরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বিরতির ঘোষণা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণার পর এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় উত্থান দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রধান মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ এর দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে গেছে।
আজ সোমবার (১৫ জুন) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ অবসানে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে একটি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজারগুলোতে জোয়ার এসেছে।
সোমবার সকালে লেনদেন শুরু হওয়ার পরপরই জাপানের প্রধান শেয়ারবাজার সূচক ‘নিক্কেই ২২৫’ ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার ‘কোসপি’ সূচক লাফিয়ে বেড়েছে ৫.৭ শতাংশ।
পাশাপাশি তাইওয়ানের ‘তাইএক্স’ সূচক ২.৭ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার ‘ASX200’ সূচক প্রায় ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মূল বাজার বন্ধ থাকার সময়েও মার্কিন শেয়ারবাজারের ফিউচার্স সূচকগুলোতে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। এর মধ্যে প্রধান সূচক ‘S&P 500’ এবং প্রযুক্তি খাতের প্রধান সূচক ‘নাসডাক কম্পোজিট’ যথাক্রমে ১ শতাংশ ও ১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রধান মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে গেছে।
এএনজে-এর এশিয়া বিষয়ক গবেষণা প্রধান খুন গোহ আল জাজিরাকে দেওয়া এ সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘গত সপ্তাহের শেষের দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন চুক্তিটি প্রায় চূড়ান্ত বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তখনই বাজার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। তবে চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়ার পর বাজারে এই বড় উত্থান ঘটেছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘তেলের দাম কমে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো, যারা মূল্যস্ফীতি নিয়ে চরম উদ্বেগে ছিল, তারা কিছুটা স্বস্তি পাবে। এখন সবার নজর মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের দিকে, যারা এই সপ্তাহেই সুদের হারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’
এর আগে গতকাল রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, তিনি কোনো ধরনের শুল্ক ছাড়াই হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘বিশ্বের সমস্ত জাহাজ, তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। তেল প্রবাহিত হতে দাও।’
পরবর্তীতে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এবং দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।