১৩ জুন ২০২৬, ০৭:৫৫

শান্তি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, দাবি আরাঘচির

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র  © সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ অবসান ও শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তিকে ঘিরে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশের মধ্যে উভয় পক্ষের শীর্ষ পর্যায় থেকে আশাব্যঞ্জক বক্তব্যও এসেছে।

শুক্রবার (১২ জুন) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং বা এমওইউ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা এর আগে কখনও এতটা কাছাকাছি ছিল না। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ এখন অনেকটাই উন্মুক্ত।

এর কিছুক্ষণ পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে আরাঘচির ওই বক্তব্য পুনরায় শেয়ার করেন। এর আগের দিন ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটেছে।

পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম একটি নথির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে সমঝোতার খসড়া তৈরি হয়েছে, তাতে বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং লেবাননের বিষয়টিও ওই চুক্তির আওতায় রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপের ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলা

তবে এর আগে ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, ইরান যে শর্তগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছে, সেগুলোর সঙ্গে লিখিতভাবে সম্মত হওয়া শর্তগুলোর কোনো মিল নেই। তিনি বলেন, ‘ইরান যে শর্তগুলো ভুয়া সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করেছে, সেগুলোর সঙ্গে লিখিতভাবে সম্মত হওয়া শর্তগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই।’ একই সঙ্গে তিনি ইরানের নেতাদের দ্রুত অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও শান্তি আলোচনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, শান্তি চুক্তির একটি চূড়ান্ত ও সম্মতিপূর্ণ খসড়ায় পৌঁছানো গেছে এবং এখন কেবল পরবর্তী পদক্ষেপগুলো চূড়ান্ত করা বাকি রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অংশ না হলেও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, লেবানন, সিরিয়া ও গাজা থেকে ইসরায়েল তাদের অবস্থান প্রত্যাহার করবে না।

যুদ্ধ অবসান ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলমান আলোচনায় সাম্প্রতিক এসব বক্তব্য ও তথ্য নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। তবে সম্ভাব্য চুক্তির চূড়ান্ত রূপ এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।