২৮ বছর পর পুরোনো ঘরেই ফিরছেন মমতা
এক বিধানসভা নির্বাচন যেন উলট পালট করে দিলো মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। এসআইআরের কবলে পড়ে ক্ষমতাসীন বিজেপির কাছে রাজ্যক্ষমতা হারানোর পর এবার নিজের হাতে গড়া তৃণমূল কংগ্রেসের ল্যাটাও চুকাতে যাচ্ছেন মমতা। ভারতীয় রাজনৈতিক মহলের গুঞ্জন অনুযায়ী বিজেপি ঠেকাতে ফের কংগ্রেসের সঙ্গে নিজেকে জুড়তে যাচ্ছেন তিনবারের সাবেক এই মূখ্যমন্ত্রী। এই জল্পনার মাঝেই আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নয়াদিল্লিতে এক জরুরি বৈঠক ডেকেছে সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটি (এআইসিসি)। মাত্র এক দিনের নোটিশে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে দেশের সব রাজ্যের প্রদেশ সভাপতি এবং রাজ্যগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকদের এই বৈঠকে তলব করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে বেশ বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর সংবাদ প্রতিদিনের
জল্পনা ছড়িয়েছে, এই বৃহস্পতিবারেই কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে, নাকি ইতোমধ্যে নেওয়া কোনো বড় সিদ্ধান্ত কেবল নেতাদের অবহিত করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে শাসক দল তৃণমূলে অভ্যন্তরীণ ভাঙন যত বাড়ছে, ততই যেন কংগ্রেসের সঙ্গে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নৈকট্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মাত্র এক দিন আগে দিল্লির ১০ জনপথে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর আজ বুধবার রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে ১০ জনপথে যান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে প্রায় ঘণ্টা দেড়েক ধরে চলা এই বৈঠককে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনার পারদ তুঙ্গে উঠেছে।
শোনা যাচ্ছে, মমতা ও অভিষেকের কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে দুই দলের শীর্ষস্তরের বৈঠকে একপ্রস্থ ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নাকি মমতাকে সর্বভারতীয় স্তরে বড় কোনো পদ এবং অভিষেককেও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে এই ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের কথা অস্বীকার করা হয়েছে।
এরই মধ্যে বুধবার হঠাৎ একপ্রকার তড়িঘড়ি করে বৃহস্পতিবার দিল্লির ইন্দিরা ভবনে এই জরুরি বৈঠক ডাকল কংগ্রেস। সাধারণত গুরুতর কোনো জাতীয় ইস্যু বা বড় কোনো সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে কংগ্রেস এই ধরনের বৈঠক ডাকে, যার জন্য আগে থেকে দীর্ঘ প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার নোটিশে এমন জরুরি বৈঠক ডাকায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, আজ কলকাতায় লোকভবন ঘেরাও কর্মসূচি থেকে পুলিশ কর্তৃক আটক হওয়া পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও মুক্তি পেয়েই দিল্লির উদ্দেশে রওনা হবেন বলে জানা গেছে। ফলে বৃহস্পতিবারের এই হাইভোল্টেজ বৈঠকের দিকেই এখন তাকিয়ে দেশের রাজনৈতিক মহল।
যদি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয় তাহলে ২৮ বছর পর ঘরে ফিরবেন মমতা।