০৮ জুন ২০২৬, ১৮:৪২

লেবাননে হামলা হলে ইজরায়েলকে আরও ধ্বংসাত্মক জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরান-ইজরায়েল পতাকা  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

দীর্ঘ দুই মাস পর আবারও সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে ইরান এবং ইসরায়েল। গত এপ্রিল মাসে মার্কিন মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি ভেঙে রবিবার রাত থেকে দুই দেশের মধ্যে দফায় দফায় তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময় শুরু হয়। তবে সোমবার (৮ জুন) বিকেলে তেহরানের পক্ষ থেকে হঠাৎ করেই ইজরায়েলে আক্রমণাত্মক অভিযান আপাতত স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে রবিবার (৭ জুন) হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়েহ শহরে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায়। এতে অন্তত দুজন নিহত হন। ইরান এই হামলাকে যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এর পরপরই ‘অপারেশন নাসর’ এর আওতায় ইসরায়েলের হাইফা শহরসহ বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক দফায় ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস আইআরজিসি।

এদিকে ইরানের এই হামলার জবাবে সোমবার ভোরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পাল্টা আঘাত হানে। তারা মধ্য ও পশ্চিম ইরানের তেহরান, তাব্রিজ এবং ইসফাহানের কাছাকাছি একাধিক সামরিক স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্র পরিকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুথি বিদ্রোহীরাও ইজরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে উদ্ভূত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

ইরানের হুঁশিয়ারি
সোমবার (৮ জুন) ইরানের সামরিক বাহিনীর যৌথ কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায় যে, তারা আপাতত ইজরায়েলে তাদের সামরিক অভিযান শেষ করেছে। তবে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইসরায়েল বা তার মিত্ররা যদি দক্ষিণ লেবানন বা বৈরুতে পুনরায় কোনো আগ্রাসন বা শত্রুতামূলক আচরণ দেখায়, তবে এর জবাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংঘাত শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আর কোনো পাল্টা হামলা না চালানোর আহ্বান জানান এবং উভয় পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধ থামানোর নির্দেশ দেন। ট্রাম্পের দাবি, উভয় পক্ষই অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের উপায় খুঁজছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর হরমুজ প্রণালির অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বজায় থাকবে। এদিকে চরম উত্তেজনার কারণে ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে ইরানে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের অবিলম্বে সেই দেশ ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে।