ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৩২
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং এর জেরে সৃষ্ট ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার (৮ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে এই শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এটিই চলতি ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে এবং ফিলিপাইনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানায়, ভূমিকম্পের তীব্রতায় সারাঙ্গানি প্রদেশের পাহাড়ি শহর গ্লানে ভয়াবহ ভূমিধস ঘটে। এতে বেশ কিছু বাড়িঘর মাটির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ১৩ জন গ্রামবাসী নিহত হন। এছাড়া সারাঙ্গানির অন্যান্য এলাকায় আরও ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সারাঙ্গানি প্রদেশের মাসিম শহর থেকে প্রায়৩২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে সমুদ্রতলে, যার গভীরতা ছিল মাটির ৩৩ কিলোমিটার নিচে। শক্তিশালী এই কম্পন পার্শ্ববর্তী দেশ মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়াতেও অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৭ লাখ মানুষের বন্দর নগরী জেনারেল সান্তোস। সেখানে বহুতল ভবন ধসে ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে অন্তত ৭ জন নিহত এবং ১৩০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া সাউথ কোটাবাতো, দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশ এবং বালুত দ্বীপে আরও ৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।
দীর্ঘ গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষে সোমবার দেশজুড়ে স্কুল খোলার প্রথম দিনেই এই বিপর্যয় ঘটে। সকালে প্রাতঃকালীন সমাবেশের সময় তীব্র কম্পন শুরু হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, হুড়োহুড়িতে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয় এবং বেশ কয়েকজন জ্ঞান হারায়। জেনারেল সান্তোসের একটি দুই তলা স্কুল ভবন ধসে পড়ার পর কিছু শিক্ষার্থী ভেতরে আটকে পড়ার আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান চলছে এবং অন্তত ৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
ভূমিকম্পের পরপরই ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চল এবং ইন্দোনেশিয়া, পালাউ ও দক্ষিণ জাপানের উপকূলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। সুলতান কুদরাত ও সারাঙ্গানি প্রদেশে প্রায় ১ মিটার (৩ ফুট) উচ্চতার সুনামি ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে। ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলোজি অ্যান্ড সিসমোলজি (ফিভলকস)-এর পরিচালক তেরেসিতো ব্যাকোলকল জানান, দুপুরের পর সুনামির বড় বিপদ কেটে গেছে এবং এতে কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে শক্তিশালী আফটারশক (অনুকম্পন) অব্যাহত থাকায় নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আকস্মিক ভূকম্পনের এ ঘটনায় ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র দুর্গত এলাকায় দ্রুত উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদারের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, জাতীয় সরকার মিন্দানাওয়ের পাশে রয়েছে।