চুক্তি সইয়ের আগে কোনো প্রকার সম্পদ ছাড়া হবে না: ট্রাম্প
শান্তি চুক্তি সই হওয়ার আগে ইরানের কোনো রকম ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করে রাখা সম্পদ অবমুক্ত করা হবে না এবং কোনো নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ-এর 'মিট দ্য প্রেস' অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। সঞ্চালক ক্রিস্টেন ওয়েলকারের নেওয়া এই সাক্ষাৎকারটি গত শুক্রবার ধারণ করা হয়। খবর গার্ডিয়ানের
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, সম্পদ অবমুক্ত বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরেই বিবেচনা করা হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘এটি চুক্তির পরেই আসবে। হ্যাঁ, তারা যদি ভালো আচরণ করে, ঠিকঠাক কাজ করে, তবেই আমরা আলোচনা শুরু করব।’ ট্রাম্প আরও জানান, তেহরানের সঙ্গে কোনো স্বল্পমেয়াদি চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তিনি এই মুহূর্তে কোনো জোর দাবি বা চাপ দিচ্ছেন না।
এর পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানে মার্কিন সেনা মোতায়েন রাখতে চান। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনী ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ ও ধ্বংস করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ধারণা করা হয়, ইরানের এই ইউরেনিয়ামের একটি বড় অংশ মাটির অত্যন্ত গভীরে সুরক্ষিত অবস্থায় সংরক্ষিত রয়েছে।
উভয় পক্ষের মধ্যে এখনো বেশ কিছু বড় ধরনের মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প দাবি করেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে। তবে এই সমঝোতার ক্ষেত্রে লেবাননে ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। এ বিষয়ে ইরানকে এক প্রকার চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প এনবিসি নিউজকে বলেন, ‘আমরা একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি আছি, অন্যথায় আমি তাদের ওপর চরম আঘাত হানব।’