০৪ জুন ২০২৬, ১৫:১১

যুক্তরাষ্ট্রে ৬৪ মিলিয়ন মশা ছাড়ছে গুগল 

গুগলের ল্যাবরেটরিতে পুরুষ মশা  © সংগৃহীত

কোডিং বা সফটওয়্যারের ‘বাগ’ (ত্রুটি) দূর করার পর এবার পৃথিবীর সবচেয়ে মারাত্মক ও প্রাণঘাতী জীব মশার বংশবৃদ্ধি রুখতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল। ডেঙ্গু, জিকা, চিকনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়ার মতো মারাত্মক রোগবাহী মশার সংখ্যা কমিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া এবং ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে মোট ৩ কোটি ২০ লাখ ল্যাবরেটরিতে তৈরি ‘বন্ধ্যা পুরুষ মশা’ ছাড়ার জন্য মার্কিন সরকারের কাছে অনুমতি চেয়েছে কোম্পানিটি। খবর গার্ডিয়ানের 

মার্কিন এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি (ইপিএ)-র ফেডারেল রেজিস্টার থেকে জানা গেছে, গুগলের পক্ষ থেকে আগামী দুই বছরে ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডায় বার্ষিক ১ কোটি ৬০ লাখ করে বন্ধ্যা মশা ছাড়ার একটি আবেদন জমা পড়েছে। এই পরীক্ষামূলক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে আগামী ৫ জুনের মধ্যে পাবলিক কমেন্ট বা জনসাধারণের মতামত নেওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইপিএ।

গুগলের এই বিশেষ উদ্যোগটি মূলত তাদের সফল ‘ডিবাগ’ প্রোগ্রামের অংশ, যা প্রায় এক দশক আগে শুরু হয়েছিল। এই পদ্ধতিতে গবেষণাগারে পুরুষ এডিস মশার শরীরে ‘ওলবাকিয়া’ নামের একটি প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করিয়ে তাদের বন্ধ্যা করা হয়। পুরুষ মশা মানুষকে কামড়ায় না এবং রোগও ছড়ায় না। এই বন্ধ্যা পুরুষ মশাগুলোকে যখন প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হবে, তখন তারা বন্য নারী মশার সঙ্গে মিলিত হলেও কোনো ডিম্বাণু থেকে বাচ্চা ফুটবে না। 

ফলে প্রতি প্রজন্মে মশার সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকবে। গুগল জানিয়েছে, মশা দমনে প্রচলিত কীটনাশক ছিটানো পদ্ধতি দিন দিন কার্যকারিতা হারাচ্ছে এবং এটি পরিবেশের জন্য বিষাক্ত। অন্যদিকে মশার প্রজনন ক্ষেত্রগুলো খুঁজে বের করে ধ্বংস করাও বেশ কঠিন। এই সংকটের সমাধানে গুগলের প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীরা এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) চালিত কম্পিউটার ভিশন, সেন্সর এবং ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় নিখুঁতভাবে পুরুষ মশা বাছাই ও তা নির্দিষ্ট সংখ্যায় সঠিক স্থানে অবমুক্ত করার প্রযুক্তি তৈরি করেছেন।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এমন বিজ্ঞান গবেষণাগারে যুক্ত হওয়া ব্যতিক্রমী মনে হলেও গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান ‘অ্যালফাবেট’ মূলত তাদের স্বাস্থ্য ও এআই বিষয়ক সাবসিডিয়ারি কোম্পানি ‘ভ্যারিলি হেলথ’-এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এই প্রজেক্ট পরিচালনা করে আসছিল, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গুগল সরাসরি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়। 

বিজ্ঞানীদের মতে, ‘স্টেরাইল ইনসেক্ট টেকনিক’ বা বন্ধ্যা কীটপতঙ্গ প্রযুক্তিটি প্রায় ১৫ বছর ধরে বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকা দমনে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গুগল তাদের এই প্রযুক্তির প্রথম আন্তর্জাতিক হাব হিসেবে সিঙ্গাপুরে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। 

সিঙ্গাপুরের জাতীয় পরিবেশ সংস্থার তথ্য উল্লেখ করে গুগল জানায়, সেখানে কোটি কোটি ওলবাকিয়া-আক্রান্ত পুরুষ মশা ছাড়ার পর মাত্র ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত দমন করা সম্ভব হয়েছে এবং ডেঙ্গুর প্রকোপ কমেছে ৭০ শতাংশেরও বেশি। দেশটির এই অভাবনীয় সাফল্যের পর ‘ডিবাক’-এর প্রধান লিনাস আপসন জানান, বৈশ্বিক ডেঙ্গু আক্রান্তের ৭০ শতাংশই এশিয়ায় হওয়ায় তারা এখন এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চল এবং যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রযুক্তির পরিধি আরও বাড়াতে আত্মবিশ্বাসী।