আগাম দাবদাহে স্পেনে এক মাসে প্রাণ গেল ১০১ জনের
ঋতু পরিবর্তনের ধারায় গ্রীষ্মকাল শুরু হওয়ার আগেই স্পেনে তীব্র ও অস্বাভাবিক দাবদাহে মে মাসেই রেকর্ড ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির দৈনিক মৃত্যুর হার পর্যবেক্ষণকারী ব্যবস্থা ‘মোমো’-র হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে এই পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকে গত মে মাসেই সর্বোচ্চ তাপজনিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। খবর ইউরোনিউজের
দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, সতর্কীকরণ সীমার ওপরে প্রতি এক ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং মৃত্যুহার ৯ দশমিক ১ শতাংশ থেকে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে তীব্র তাপমাত্রার স্বাস্থ্যগত প্রভাব মোকাবিলায় ‘২০২৬ সালের জাতীয় প্রতিরোধমূলক কর্মপরিকল্পনা’ ঘোষণা করেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গেল মে মাসে স্পেনে তাপজনিত কারণে মৃত্যুর এই সংখ্যা গত এক দশকের মে মাসের গড় মৃত্যুর তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৬ গুণ বেশি। সাধারণত বছরের যে সময়গুলোতে তীব্র গরম পড়ে, তার বাইরে এমন চরম আবহাওয়ার প্রকোপ জনস্বাস্থ্যের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ও মারাত্মক প্রভাবকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘মূল সমস্যাটি এখন আর কেবল অতিরিক্ত গরম পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং সমস্যা হলো গরম এখন স্বাভাবিক সময়ের অনেক আগেই চলে আসছে এবং আমাদের শরীর এই আকস্মিক পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বা অভ্যস্ত হওয়ার সময় পাচ্ছে না।’
স্পেনে চরম আবহাওয়ার ঘটনা দিন দিন আরও ঘন ঘন ও মারাত্মক আকার ধারণ করছে। ‘মোমো’ ব্যবস্থার সংগৃহীত তথ্যের পুঞ্জীভূত বিশ্লেষণ থেকে স্পেনে চরম তাপপ্রবাহের ভয়াবহ মানবীয় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যবর্তী সময়ে দেশটিতে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে আনুমানিক ২৭,৫৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
২০২২ সাল ছিল স্পেনের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী বছর, যেখানে তীব্র গরমে ৪,৭৮৯ জন মারা যান; আর এর পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩,৮৩২ জনের মৃত্যুর রেকর্ড হয় গত ২০২৫ সালে।