০১ জুন ২০২৬, ১১:১৭

ইসলামী ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ

পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ  © সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত গ্রাহকদের কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ব্যবহার এবং টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনায় কয়েকজন গ্রাহক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (১ জুন) সকাল থেকে রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান নেন ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা। তারা ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহকেরা জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ অভিযান শুরু করে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।

আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের ধাওয়া ও লাঠিচার্জে কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, পাল্টা বিমানঘাঁটিতে আঘাতের দাবি তেহরানের

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলেন। তাদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান এস আলমের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। তাকে নিয়োগ দেওয়ার ফলে ব্যাংকে আবারও লুটপাট ও অনিয়মের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণেই তারা তাদের দাবি তুলে ধরতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছিলেন।

তারা আরও অভিযোগ করেন, অতীতে ব্যাংকটিকে ঘিরে যেসব অনিয়ম ও বিতর্কের অভিযোগ উঠেছিল, নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের ফলে সেসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই তারা আন্দোলনে নেমেছেন।

পুলিশ প্রথম দফায় আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিলেও পরে তাদের একটি অংশ আবার ইসলামী ব্যাংক এলাকার আশপাশে অবস্থান নেয়। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত চেয়ারম্যানকে ঘিরে অভিযোগ ও আশঙ্কাগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।