০১ জুন ২০২৬, ১০:৫৮

ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, পাল্টা বিমানঘাঁটিতে আঘাতের দাবি তেহরানের

ইরান  © সংগৃহীত

সপ্তাহান্তে ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানায়। প্রায় তিন মাস ধরে চলমান যুদ্ধ অবসানে আলোচনা চলার মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে এই হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (১ জুন) এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর পরিচালিত একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করাসহ ইরানের ‘আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের’ জবাব হিসেবে পারস্য উপসাগরীয় উপকূলে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, মার্কিন যুদ্ধবিমান দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত দুটি একমুখী হামলাকারী ড্রোন ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির সময়েও যুক্তরাষ্ট্র তার সম্পদ ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হয়।

অন্যদিকে আইআরজিসি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানে হামলা চালানোর জন্য ব্যবহৃত একটি বিমানঘাঁটিতে তারা পাল্টা আঘাত হেনেছে। তবে ওই বিমানঘাঁটির অবস্থান বা নাম প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে আইআরজিসি জানিয়েছিল, হরমোজগান প্রদেশের সিরিক দ্বীপে একটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন হামলার পর তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স সংশ্লিষ্ট বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়। তবে সেখানেও ঘাঁটির অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

এদিকে সোমবার কুয়েতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে সারা দেশে সাইরেন বেজে ওঠে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। আরও টেকসই সমঝোতায় পৌঁছাতে আলোচনা চললেও উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। গত বৃহস্পতিবারও একই ধরনের একটি সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এটি উভয় পক্ষই প্রায় একই ভাষায় বর্ণনা করেছিল।

আরও পড়ুন: পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট, ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ যাচ্ছে আইআরজিসির হাতে!

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে যুদ্ধ শুরু করে, তাতে প্রধানত ইরান ও লেবাননে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন, এই যুদ্ধে তার মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখা। তবে তেহরান বরাবরই এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এদিকে নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ বাড়তে থাকায় ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার চাপও বাড়ছে। একই সময়ে তেহরানের প্রতি কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হলে নিজ দলের ইরানবিরোধী কঠোর অবস্থানের সমর্থকদের প্রতিক্রিয়ার মুখেও পড়তে পারেন তিনি।

আলোচনায় অগ্রগতি হলেও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো দুই পক্ষের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা কয়েক দশমিক বিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রির অর্থ মুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছে।

অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে কেন্দ্র করে লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধও কূটনৈতিক সমাধানের পথে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু রবিবার জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে তিনি সেনাদের আরও ভেতরে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করেছেন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরায়েল-লেবানন পরিস্থিতিতে উত্তেজনা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন একটি ‘ক্রমধারাভিত্তিক উত্তেজনা প্রশমন’ পরিকল্পনাও প্রস্তাব করেছে।